আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের সার্বিক প্রস্তুতি ও সময় ব্যবস্থাপনার বাস্তব মূল্যায়ন শুরু করেছে। তবে গণভোটে হ্যাঁ/না বান্ডেল প্রশ্নে — অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না, জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ.এম.এম. নাসির উদ্দিন।
আজ শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত মক-ভোটিং (ভোট মহড়া) পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, আজকের মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনে একটি আদর্শ পোলিং সেন্টারের পরিবেশ বাস্তব জীবনে কেমন হবে, তা যাচাই করা। ভোটার কিউ, পোলিং অফিসারদের কার্যক্রম, প্রিসাইডিং অফিসারদের ভূমিকা, এবং সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া কেমন পরিচালিত হবে — এসবই পরীক্ষার বিষয়।
বলেন, নতুন ভোটারসহ অনেকেরই ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা নেই। মক-ভোটিং তাদের হাতে-কলমে বাস্তব অভিজ্ঞতা দেবে। এবারের নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট যুক্ত হওয়ায় সময় ব্যবস্থাপনা আরও জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়। কিন্তু এবার ৪২,৫০০ পোলিং সেন্টার যথেষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সিইসি জানান, আজকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে — প্রয়োজন হলে বুথ বা কেন্দ্র বাড়ানো হবে। তবে যাতে অতিরিক্ত জনবল, লজিস্টিক ও ব্যয় প্রয়োগ করতে হয়, সেটিও বিবেচনায় রয়েছে।
ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে সাংবাদিকদের মধ্যেও দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাইরে চলে যেতে অনুরোধ করেন তিনি। কারণ, ভোটকেন্দ্রে ভিড় বা ধাক্কাধাক্কি হলে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হতে পারে। সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি কখনোই পুরোপুরি পেরফেক্ট ছিল না; কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকবেই। কিন্তু সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি অনেক উন্নতি করেছে।” পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, আনসার-বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ সব সম্পর্কিত সংস্থার সঙ্গে ইসি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। গণভোটের প্রচারণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিইসি জানান, এখন আইন পাস হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রচার শুরু করবে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, “গণভোটে চারটি প্রশ্ন থাকলেও ভোট হবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভিত্তিতে। প্রশ্নগুলো একসঙ্গে বান্ডেল করা হয়েছে; আলাদা-আলাদা কোনো বিকল্প বা অপশন থাকবে না। এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হয়েছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। “আমরা মোটামুটি সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইনশাআল্লাহ, জাতিকে একটি সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেব,” বলেন সিইসি।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!