জাতীয়

সমুদ্রে অবৈধ মৎস্য আহরণে মাছের সংস্থান কমছে : মৎস্য উপদেষ্টা

আপডেট: নভে ৩০, ২০২৫ : ০৫:১১ পিএম
সমুদ্রে অবৈধ মৎস্য আহরণে মাছের সংস্থান কমছে : মৎস্য উপদেষ্টা

সমুদ্রের মাছের সংস্থান প্রকৃতির অমূল্য দান হলেও অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত মৎস্য আহরণ, অতি আহরণ এবং ক্ষতিকর জালের ব্যবহার সামুদ্রিক সম্পদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক সমুদ্র জরিপের ফল বাংলাদেশকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

আজ রবিবার বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ইকোসিস্টেম অ্যাপ্রোচ টু ফিশারিজ–নানসিন সার্ভে ২০২৫: বাংলাদেশে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনার টেকসই অগ্রগতির জন্য জরিপের ফল ও করণীয়’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ফরিদা আখতার বলেন, জরিপে দেখা গেছে—অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরার কারণে সমুদ্রে মাছের সামগ্রিক স্টক কমছে। তিনি জানান, দেশে ২৭৩টি শিল্প ট্রলারের মধ্যে ৭২টি ট্রলারে সোনার প্রযুক্তি রয়েছে। কিন্তু তা সঠিকভাবে ব্যবহার না হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত মাছ ধরা এবং অপচয় বেড়ে যাচ্ছে।

মৎস্য উপদেষ্টা আরও বলেন, বঙ্গোপসাগরের কোথাও অক্সিজেন কমে যাচ্ছে, কোথাও আবার অক্সিজেন স্বল্প অঞ্চল বিস্তার লাভ করছে। পাশাপাশি মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বৃদ্ধি ও জেলিফিশের অস্বাভাবিক দখল—এসবই সতর্ক সংকেত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সাগর আমাদের অমূল্য সম্পদ, কিন্তু আমাদের অব্যবস্থাপনা তার ক্ষতি ডেকে আনছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রাপ্য সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে।”

তিনি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলারের লাইসেন্স প্রদান কঠোরভাবে সীমিত করা এবং ট্রলারভিত্তিক মৎস্য আহরণে কড়াকড়ি আরোপের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি নরওয়ে সরকার ও এফএওকে ২০২৭-২৮ সালের জরিপসহ আরও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। বাংলাদেশের নিজস্ব গবেষণা জাহাজ প্রাপ্তির প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।

এ ব্রিফিংয়ে বিশ্বখ্যাত গবেষণা জাহাজ আর ভি ড. ফ্রিজতভ নানসিন–এর সাম্প্রতিক জরিপের প্রাথমিক ফল উপস্থাপন করা হয়। এতে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরে ৪৭৫ প্রজাতির মাছ, ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি, ৫ প্রজাতির লবস্টার, ১৫টির বেশি প্রজাতির কাঁকড়া, ৫ প্রজাতির কচ্ছপ, ১৩ প্রজাতির প্রবালসহ আরও ৬৫টি নতুন প্রজাতির মাছের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে ৫টি প্রজাতি শুধু বঙ্গোপসাগরেই পাওয়া গেছে, যা বিশ্বের অন্য কোনো সাগরে নেই।

বিজ্ঞানীরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশদূষণসহ নানা কারণে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংকটে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে এখনই সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

গত ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত এই সমুদ্র জরিপটি ২০১৮ সালের পর দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ মেরিন ইকোসিস্টেম জরিপ।

 

আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!