জাতীয়

৪ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হয়েছে: ইউনিসেফ

আপডেট: ডিসে ০৭, ২০২৫ : ০৮:৫১ এএম
৪ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হয়েছে: ইউনিসেফ

বাংলাদেশে ৪ কোটি ২৫ লাখের বেশি শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।

রানা ফ্লাওয়ার্স রবিবার এক বিবৃতিতে বলেন, “একটি দারুণ খবর জানাতে পেরে আমি গর্ব ও আনন্দ বোধ করছি। টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) ক্যাম্পেইন ২০২৫-এর মাধ্যমে দেশের ৯৭ শতাংশের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ শিশুদের প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে টাইফয়েড প্রতিরোধে নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর কাতারে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম দেশ হিসেবে এই জীবনরক্ষাকারী ক্যাম্পেইন চালু করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে মাত্র ৩৯.৩ শতাংশ মানুষের নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনায় সুবিধা রয়েছে। তবে পানির প্রায় অর্ধেক উৎসে (৪৭.২ শতাংশ) এবং প্রতি ১০টির মধ্যে ৮ পরিবারের ব্যবহৃত পানিতে (৮৪.৯ শতাংশ) ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার দূষণ রয়েছে। এর ফলে লাখ লাখ শিশু প্রতিদিন টাইফয়েডসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে।”

রানা ফ্লাওয়ার্স উল্লেখ করেন, “পরিষ্কার ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের গুরুতর অসুস্থতা থেকে রক্ষা, তাদের ভবিষ্যত নিরাপদ রাখা এবং বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা কমানো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ ক্ষেত্রে টিসিভি টিকা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা।”

তিনি অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “টিকা গ্রহণে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। টিকা দেওয়ার লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ সরকার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সারা দেশের দলের প্রচেষ্টার প্রশংসা জানাই। ইউনিসেফ এই ক্যাম্পেইনের প্রতিটি ধাপে সহায়তা করেছে। ৫ কোটি ৪০ লাখ ডোজ টিসিভি টিকা সরবরাহ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ভ্যাক্সইপিআই প্ল্যাটফর্মের মতো ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে সঠিক সময়ে সঠিক শিশুর কাছে টিকা পৌঁছানো নিশ্চিত করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেও আমরা জাতীয় এই ক্যাম্পেইনের সাফল্যে অবদান রেখেছি।”

 

আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!