জাতীয়

হামলাকারীরা যেন দেশ ছাড়তে না পারে, সীমান্তে সর্বোচ্চ নজরদারির নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আপডেট: ডিসে ১৩, ২০২৫ : ০৫:৫৩ এএম
হামলাকারীরা যেন দেশ ছাড়তে না পারে, সীমান্তে সর্বোচ্চ নজরদারির নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
ফাইল ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা যাতে কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারে, সে জন্য সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও তদারকি নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামলাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন তিনি।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে ড. ইউনূস বলেন, শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে অন্যতম উদ্বেগজনক ঘটনা। এ হামলা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ওপর সুপরিকল্পিত আঘাত। এর মাধ্যমে পরাজিত শক্তি দেশের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এ ধরনের হামলার চেষ্টা আমরা যেকোনো মূল্যে ব্যর্থ করে দেব। জাতির ওপর অপশক্তির আঘাত কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’ তিনি জানান, এই হামলার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে যত বাধা-বিপত্তিই আসুক, কোনো শক্তিই নির্বাচনকে বানচাল করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, দেশের আপামর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে।

বৈঠকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানসহ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীরা এবং পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান জানান, শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, ‘যে করেই হোক, হামলাকারী ও এর নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।’ তিনি দেশবাসীকে হাদির দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া করার আহ্বান জানান। পুলিশ জানায়, হামলার স্থান থেকে সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হামলাকারীরা যাতে কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন—এমন ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশও দেন তিনি। বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সম্ভাব্য আশ্রয়স্থলে অভিযান জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শিগগিরই প্রধান প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রধান উপদেষ্টা—এ সিদ্ধান্তও হয় বৈঠকে।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!