স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। দাবি পূরণ না হলে শিক্ষার্থী-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে সমাবেশ করে এ ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শরিফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
একই সঙ্গে হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিও জানান নেতারা। এর আগে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে শরিফ ওসমান হাদিকে দাফন করা হয়। দাফনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ডাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাসহ হাদির পরিবার-পরিজন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শরিফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজায় ইমামতি করেন হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা এক সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ছয় দিন পর গত বৃহস্পতিবার সেখানে একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর থেকে তাঁর মরদেহ দেশে আনা হয়। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে তিনি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গড়ে তোলেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার। আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!