জাতীয়

ঢাকা–কক্সবাজারসহ ছয় রুটে ট্রেনের ভাড়া বাড়ল

আপডেট: ডিসে ২১, ২০২৫ : ০৫:০০ এএম
ঢাকা–কক্সবাজারসহ ছয় রুটে ট্রেনের ভাড়া বাড়ল

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে ট্রেন ভ্রমণে যাত্রীদের আজ শনিবার থেকে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ঢাকা–কক্সবাজারসহ নির্দিষ্ট ছয়টি রুটে ১০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের সেতু ব্যবহারের জন্য ‘পন্টেজ চার্জ’ আরোপের মাধ্যমে এই ভাড়া বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে।

এতে আসন ও শ্রেণিভেদে ট্রেনের ভাড়া সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত ১৩ বছরে এটি পঞ্চমবারের মতো ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর ঘটনা। রেলওয়ে সূত্র জানায়, এবার সরাসরি টিকিটের মূল ভাড়া না বাড়িয়ে সেতু ব্যবহারের অতিরিক্ত মাশুল যুক্ত করা হয়েছে। রেলওয়ের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, রেলপথে ১০০ মিটার বা তার বেশি দৈর্ঘ্যের কোনো সেতু থাকলে দূরত্ব গণনায় সেটিকে আড়াই কিলোমিটার হিসেবে ধরা হয়, যা ‘পন্টেজ চার্জ’ নামে পরিচিত। এই নিয়ম কার্যকর হওয়ায় কাগজে-কলমে গন্তব্যের দূরত্ব বেড়েছে, ফলে টিকিটের দামও বেড়েছে।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি রুটে থাকা মোট ১১টি সেতুর ওপর এই পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হয়েছে। রুটগুলো হলো—ঢাকা–চট্টগ্রাম, ঢাকা–কক্সবাজার, ঢাকা–সিলেট, চট্টগ্রাম–সিলেট, চট্টগ্রাম–জামালপুর ও ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ। এর আগে গত ২৫ মে আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে আয়োজিত এক বৈঠকে টিকিটের দাম না বাড়িয়ে আয় বাড়ানোর ১৩টি সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ১০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপের সিদ্ধান্ত ছিল অন্যতম। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এবার ভাড়া বৃদ্ধি কার্যকর করা হলো।

রেলওয়ের ভাড়া বৃদ্ধির অতীত চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১২ সালে একবারে ৫০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়। ২০১৬ সালে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ৩৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৯ পয়সা করা হয়। ২০২২ সালে নন-এসি প্রথম শ্রেণির টিকিটে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। ২০২৪ সালে অতিরিক্ত কোচের টিকিটে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয় এবং একই বছরের মে মাসে দূরপাল্লার ট্রেনে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ২০১২ সালের ৫৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ৯৪৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া এখন ৪৯৫ টাকা। এই রুটে পন্টেজ চার্জ যুক্ত হওয়ায় দূরত্ব ৩৪৬ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ৩৮১ কিলোমিটার ধরা হয়েছে।

ঢাকা–কক্সবাজার রুটে স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪৪৯ টাকা, এসি সিট ১ হাজার ৭৪০ টাকা এবং এসি বার্থ ২ হাজার ৬৫৬ টাকা। একইভাবে ঢাকা–সিলেট, চট্টগ্রাম–সিলেট, চট্টগ্রাম–জামালপুর ও ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ রুটেও বিভিন্ন শ্রেণির টিকিটে বাড়তি ভাড়া কার্যকর হয়েছে।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সব রুটে নয়, নির্দিষ্ট কিছু রুটে সীমিত পরিসরে ভাড়া বেড়েছে। মূলত পুরোনো সেতুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নির্বাহের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, নানা কৌশলে বারবার ভাড়া বাড়ানো অযৌক্তিক। আয় বাড়াতে হলে রেলের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।


আরএস

Tags:
বাংলাদেশ রেলওয়ে

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!