জাতীয়

বেনজীরের ১ হাজার ৩২৭ টি-শার্ট, ৫৮৩ শাড়িসহ বিপুল মালামাল জমা পড়ল ত্রাণ তহবিলে

আপডেট: ডিসে ২৩, ২০২৫ : ০৫:২০ এএম
বেনজীরের ১ হাজার ৩২৭ টি-শার্ট, ৫৮৩ শাড়িসহ বিপুল মালামাল জমা পড়ল ত্রাণ তহবিলে

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন গুলশানের চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থেকে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ মালামাল সরকারি ত্রাণ তহবিলে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব মালামাল নিলামের পরিবর্তে জনস্বার্থে ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে গত ১৪ ডিসেম্বর এসব মালামাল প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ভান্ডারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

দুদক সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের (আদেশ নং–১৮) নির্দেশে বাজেয়াপ্ত করা এসব মালামাল নিলামের পরিবর্তে ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল। আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্য নিলাম আয়োজন করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে এবং বিপুল পরিমাণ কাপড় ও গৃহস্থালি সামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকায় আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেন।

চার ফ্ল্যাটে যা পাওয়া গেছে

গুলশানের ‘র‍্যাংকন আইকন টাওয়ার’-এর ১২/এ, ১২/বি, ১৩/এ ও ১৩/বি নম্বর ফ্ল্যাট থেকে জব্দ করা মালামালের তালিকা দীর্ঘ। এর বড় অংশজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পোশাক। চারটি ফ্ল্যাট থেকে মোট ৫৮৩টি শাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কক্ষ থেকে ১১৯টি শার্ট, ১২৮টি পুরুষদের প্যান্ট ও ৩৩৫টি লেডিস প্যান্ট পাওয়া গেছে। বড় গেঞ্জি, ছোট গেঞ্জি ও টি-শার্ট মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৩২৭টি পোশাক জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ১১৮টি পাঞ্জাবি এবং ১৭৯ জোড়া স্যান্ডেল, কেডস ও জুতা পাওয়া গেছে।

গৃহস্থালি ও অন্যান্য সামগ্রী

রান্নাঘর ও স্টোররুম থেকে পাওয়া গেছে বিভিন্ন দামি ব্র্যান্ডের ইলেকট্রনিক পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে বার্নার, ওভেন, এয়ার ফ্রায়ার, কর্ডলেস টেলিফোন ও ভ্যাকুয়াম ক্লিনার।

এ ছাড়া ১৩/এ নম্বর ফ্ল্যাটের নামাজের ঘর থেকে ৩২টি আতর বা পারফিউম, ১১টি জায়নামাজ ও ৪৮টি তসবিহ জব্দ করা হয়। পুলিশের লোগোসংবলিত মগ, ট্রাভেল ট্রলি এবং বিভিন্ন শোপিসও মালামালের তালিকায় রয়েছে।

হস্তান্তর প্রক্রিয়া

দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি এসব মালামাল গ্রহণ ও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলামযোগ্য মালামালের কিছু নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাকি সব পচনশীল দ্রব্য, ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত কাপড় এবং গৃহস্থালি সামগ্রী প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ভান্ডারে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দুদক বলছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অভিযুক্ত সাবেক এই সরকারি কর্মকর্তার অবৈধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!