জাতীয়

১০ম দ্বি-বার্ষিক মৎস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত : গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান

আপডেট: ডিসে ২৪, ২০২৫ : ০৪:২৮ পিএম ১৭
১০ম দ্বি-বার্ষিক মৎস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত : গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান

মঈন মাহমুদ

‘পরবর্তী প্রজন্মের মৎস্য ও জলজ চাষ: নিরাপদ খাদ্য, সমতা ও পরিবেশ’- প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশ ফিশারিজ রিসার্চ ফোরাম (বিএফআরএফ)-এর উদ্যোগে সম্পন্ন হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘১০ম দ্বি-বার্ষিক মৎস্য সম্মেলন ও গবেষণা মেলা ২০২৫’। 

রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) অডিটোরিয়ামে সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।  সম্মেলনের সমাপনী দিনে আজ বিভিন্ন সেশনের গবেষণার সারাংশ উপস্থাপন করেন বিএফআরএফ-এর সাধারণ সম্পাদক ড. মো.মনিরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বার্ক-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো.আবদুস সালাম। 

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বার্ক ও কেজিএফ-এর বিভিন্ন সম্মেলন গবেষকরা মাছের পুষ্টিমান উন্নয়ন, রোগ ব্যবস্থাপনা, এবং উপকূলীয় নীল অর্থনীতি নিয়ে তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। উল্লেখযোগ্য গবেষণার মধ্যে রয়েছে নিরাপদ খাদ্য : মাছের পুষ্টিগুণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক কালচার সিস্টেমের প্রভাব। প্রযুক্তি : চিংড়ি রপ্তানিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্লকচেইন ভিত্তিক ট্রাসিবিলিটি মডেল। পরিবেশ ও দূষণ : দেশের বিভিন্ন জলাশয় ও নদীতে মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং ভারী ধাতুর উপস্থিতির প্রভাব ও প্রতিকার। উদ্ভাবন : মাছের বিকল্প খাদ্য হিসেবে মাইক্রোঅ্যালগি বা ক্ষুদ্র শৈবালের ব্যবহার।

বিএফআরএফ-এর সাধারণ সম্পাদক ড. মো. মনিরুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ফিশারিজ রিসার্চ ফোরাম গত দুই দশক ধরে দেশের মৎস্য খাতের গবেষক, বিজ্ঞানী এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। আমাদের এবারের সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মৎস্য খাত নিশ্চিত করা। আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমেই আমরা নিরাপদ পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারি এবং প্রান্তিক মৎস্যজীবীদের জীবনমানের টেকসই উন্নয়ন ঘটাতে পারি।বিএফআরএফ এই লক্ষ্য অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। 

বিএফআরএফ-এর এই আয়োজন বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং নিরাপদ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এর আগে উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিএফআরএফ-এর সভাপতি ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জোয়ার্দার ফারুক আহমেদ।
সম্মেলনের প্রথম দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  মৎস্য ও  প্রাণিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফারুক-উল-ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ, এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। গেস্ট অফ অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন এফএও বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড.দিয়া সানু।

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!