তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে খুলনা মহানগর মহিলা দল।
এক শোকবার্তায় মহানগর মহিলা দলের নেত্রী ও খুলনা সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মাজেদা খাতুন বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে দেশ একজন অভিভাবকতুল্য নেত্রীকে হারাল। তার নেতৃত্ব, সাহস ও আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন নারী নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক শক্ত প্রতীক। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব দেশের মানুষকে বারবার সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে।
নারী রাজনীতির পথপ্রদর্শক
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের যে শক্ত ভিত্তি আজ দৃশ্যমান, তার পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ছিলেন এ দেশের নারী রাজনীতির পথপ্রদর্শক—যিনি ক্ষমতার রাজনীতির পাশাপাশি সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা ও গণতন্ত্রের রাজনীতিকে সামনে এনে দিয়েছেন।
মাজেদা খাতুন বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া আমাদের জন্য শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন; তিনি ছিলেন নারী রাজনীতির সাহসী পথপ্রদর্শক। তাঁর হাত ধরেই হাজারো নারী রাজনীতিতে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা পেয়েছে।”
গৃহবধূ থেকে রাজনীতির শীর্ষে
১৯৮১ সালে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর রাজনীতির মাঠে আসেন বেগম খালেদা জিয়া। গৃহবধূ থেকে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বে রূপান্তর—বাংলাদেশের রাজনীতিতে যা এক বিরল দৃষ্টান্ত। সে সময় নারীদের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা ছিল সীমিত। প্রতিকূল সামাজিক বাস্তবতার মধ্যেও তিনি সাহসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যান।
মাজেদা খাতুন বলেন, “যে সময়ে নারীদের রাজনীতি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ, সে সময়ে বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দিয়ে প্রমাণ করেছেন—নারীরাও রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্ষম।”
স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন নেতৃত্ব
আশির দশকের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি রাজপথে নেমে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেন। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নারী নেতৃত্ব প্রথমবারের মতো রাজপথে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা পায়।
মাজেদা খাতুনের ভাষায়, “স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া আমাদের শিখিয়েছেন—ভয় নয়, প্রতিবাদই রাজনীতির মূল শক্তি।”
নারী উন্নয়ন ও শিক্ষা প্রসারে অবদান
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বেগম খালেদা জিয়া নারী উন্নয়নকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ করেন। মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করা তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারীদের শিক্ষার সুযোগ বিস্তারে মাইলফলক হয়ে আছে।
মাজেদা খাতুন বলেন, “নারীর ক্ষমতায়ন শুধু স্লোগান নয়—বেগম খালেদা জিয়া তা বাস্তব নীতিতে রূপ দিয়েছিলেন।”
নির্যাতনের মধ্যেও আদর্শে অবিচল
রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে বেগম খালেদা জিয়া চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। মিথ্যা মামলায় কারাবরণ এবং গুরুতর অসুস্থতার মধ্যেও তিনি আদর্শ থেকে সরে যাননি। এই অধ্যায় নারী রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
মাজেদা খাতুন বলেন, “কারাগারের দেয়ালও তাঁকে নত করতে পারেনি। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন—আদর্শের প্রশ্নে কোনো আপস নেই।”
উত্তরাধিকার ও প্রেরণা
আজ দেশের স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় রাজনীতি—সব স্তরে যে নারী নেত্রীরা সক্রিয়, তাঁদের অনেকের পথচলার পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম ও নেতৃত্ব অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
খুলনা মহানগর মহিলা দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন নারী রাজনীতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশক হয়ে থাকবে।
মাজেদা খাতুন বলেন, “আজ আমরা একজন নেত্রীকে হারালেও তাঁর আদর্শ হারায়নি। বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে থাকবেন সাহস, সংগ্রাম ও আপসহীন নেতৃত্বের অনন্ত প্রেরণা হয়ে।”
খুলনা মহানগর মহিলা দলের পক্ষ থেকে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
No comments yet. Be the first to comment!