জাতীয়

এক আইএমইআইতেই ৩ কোটি ৯১ লাখ মোবাইল সংযোগ

আপডেট: জানু ০২, ২০২৬ : ০৩:৪৯ পিএম
এক আইএমইআইতেই ৩ কোটি ৯১ লাখ মোবাইল সংযোগ

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর পর দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে। সরকারি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক দশকে মাত্র একটি আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর ব্যবহার করেই দেশে ৩ কোটি ৯১ লাখের বেশি মোবাইল সংযোগ নেটওয়ার্কে সক্রিয় ছিল।

শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

পোস্টে তিনি বলেন, এনইআইআর চালুর পর ‘ক্লোন ফোন’ সংক্রান্ত যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তার ভয়াবহতা আগে কল্পনাও করা হয়নি।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, বর্তমানে মোবাইল নেটওয়ার্কে ‘1111111111111’, ‘0000000000000’, ‘9999999999999’-এর মতো অবাস্তব ও প্যাটার্নভিত্তিক অসংখ্য আইএমইআই নম্বর সক্রিয় রয়েছে। আপাতত এসব আইএমইআই নম্বর ব্লক করা হচ্ছে না। বরং জনজীবনে বিঘ্ন এড়াতে এসব ডিভাইস ‘গ্রে’ হিসেবে ট্যাগ করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের লাখ লাখ মানুষ নিম্নমানের নকল ও ক্লোন ফোন ব্যবহার করছেন, যেগুলোর রেডিয়েশন বা এসএআর পরীক্ষাসহ কোনো ধরনের নিরাপত্তা যাচাই হয়নি। দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কেই এসব ফোন সচল রয়েছে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, গত ১০ বছরে শুধু একটি আইএমইআই নম্বর ‘99999999999999’ ব্যবহার করে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি সংযোগ শনাক্ত করা হয়েছে। তথ্যগুলো বিভিন্ন কম্বিনেশনে—ডকুমেন্ট আইডি, এমএসআইএসডিএন ও আইএমইআই—পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, এসব আইএমইআইয়ের কিছু অংশ স্মার্টফোন ছাড়াও আইওটি ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। অপারেটররা বর্তমানে মোবাইল ফোন, সিম–সংযুক্ত ডিভাইস ও আইওটি ডিভাইসের আইএমইআই আলাদা করে শনাক্ত করতে পারে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো কোনো সিসিটিভি বা অনুরূপ ডিভাইস একই আইএমইআই নম্বরে নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকতে পারে। তবে বৈধভাবে আমদানি করা আইওটি ডিভাইস আলাদা করে ট্যাগ করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘440015202000’ নম্বরের আইএমইআই দিয়ে ১৯ লাখের বেশি ডিভাইস নেটওয়ার্কে সচল রয়েছে, যেগুলো ডুপ্লিকেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। একইভাবে ‘35227301738634’ নম্বরে সাড়ে ১৭ লাখের বেশি এবং ‘35275101952326’ নম্বরে সোয়া ১৫ লাখের বেশি ডিভাইস শনাক্ত হয়েছে। এমনকি মাত্র একটি অঙ্কের ‘0’ আইএমইআই ব্যবহার করে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩১টি ডিভাইস সক্রিয় পাওয়া গেছে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ক্লোন ও নকল ফোনের বিস্তার সম্পর্কে ধারণা থাকলেও এর গভীরতা যে এত ভয়াবহ, তা আগে বোঝা যায়নি।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে সংঘটিত ডিজিটাল জালিয়াতির ৭৩ শতাংশই ঘটে অনিবন্ধিত ডিভাইসে। একই সঙ্গে বিটিআরসি ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে সংঘটিত ই–কেওয়াইসি জালিয়াতির ৮৫ শতাংশই হয়েছে অবৈধ বা পুনঃপ্রোগ্রাম করা হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে।

২০২৩ সালে দেশে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। তবে রিপোর্ট না হওয়া চুরির ফোনের সংখ্যা আরও কয়েক লাখ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ফোনের বড় একটি অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, আন–অফিশিয়াল নতুন ফোনের নামে ব্যাপক হারে নকল হ্যান্ডসেট বিক্রি করা হয়েছে। এটি নজিরবিহীন প্রতারণা। এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

প্রসঙ্গত, অবৈধ ও আন–অফিশিয়াল হ্যান্ডসেট ব্যবহারে লাগাম টানতে সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে এনইআইআর। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডেটাবেজে সংযুক্ত হচ্ছে।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!