জাতীয়

এনইআইআর চালুর প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে দোকান বন্ধের ঘোষণা মোবাইল ব্যবসায়ীদের

আপডেট: জানু ০২, ২০২৬ : ০৩:৫২ পিএম
এনইআইআর চালুর প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে দোকান বন্ধের ঘোষণা মোবাইল ব্যবসায়ীদের

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসা–সংক্রান্ত সব ধরনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)।

আজ শুক্রবার দুপুরে এমবিসিবির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শামীম মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শামীম মোল্লা বলেন, মোবাইল আমদানিতে বিদ্যমান করহার ও বিভিন্ন এনওসি (অনাপত্তি সনদ) প্রক্রিয়া ব্যবসায়ীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিটিআরসি নির্ধারিত মাদার কোম্পানি এনওসি, লোকাল এনওসি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এনওসি সহজীকরণ এবং মোট করহার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। পাশাপাশি ব্যবহৃত (ইউজড) মোবাইল ফোন আমদানির জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব দাবি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ছয় মাস সময় চাওয়া হলেও একপর্যায়ে তিন মাসের একটি ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়। ওই সময়ের মধ্যে বিদ্যমান স্টক বিক্রির সুযোগ দেওয়া এবং পরে এনইআইআর কার্যকর করার আশ্বাস ছিল।

তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, করসংক্রান্ত সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান না করেই এনইআইআর চালু করা হয়েছে। শামীম মোল্লার দাবি, বিটিআরসি চেয়ারম্যান একাধিকবার কর ইস্যু নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এনইআইআর চালু না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালেও এ বিষয়ে ফোনে কথা হলেও সেদিনই এনইআইআর চালু করা হয়।

এনইআইআর কার্যকর হওয়ার পর অনেক গ্রাহকের মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বলে দাবি করেন তিনি। এতে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও বৈঠক না হওয়ায় তাঁরা বিকেলে সেখান থেকে চলে যান।

শামীম মোল্লা জানান, এ সময় বিটিআরসি ভবনের পূর্ব পাশ থেকে একদল লোক এসে ভাঙচুর শুরু করে। ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

তিনি বলেন, এসব ঘটনার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিও তাদের কর্মসূচির অংশ।

মোবাইল আমদানিতে শুল্ক কমানোর সাম্প্রতিক ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, আগে প্রায় ৬১ শতাংশ কর থাকলেও তা কমিয়ে ৪৩ শতাংশ করা হয়েছে। কিন্তু এটি এখনও অত্যধিক। অন্য কোনো খাতে এত বেশি কর আরোপ করা হয় না বলেও তিনি দাবি করেন।

শামীম মোল্লা বলেন, যত দিন পর্যন্ত তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হবে এবং আটক ব্যবসায়ীদের মুক্তি দেওয়া না হবে, তত দিন মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট সব ধরনের দোকান বন্ধ থাকবে। পরবর্তী কর্মসূচি পরে ঘোষণা করা হবে।

প্রসঙ্গত, দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেট ব্যবহারে লাগাম টানতে সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর একটি জাতীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!