জাতীয়

নিবন্ধন আইন সংশোধন, চালু হচ্ছে ই–রেজিস্ট্রেশন

আপডেট: জানু ০৩, ২০২৬ : ০৫:১৩ এএম ১০
নিবন্ধন আইন সংশোধন, চালু হচ্ছে ই–রেজিস্ট্রেশন

দেশের দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও ডিজিটাল করতে শতবর্ষী ‘নিবন্ধন আইন, ১৯০৮’ সংশোধন করা হয়েছে। ‘নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারির মাধ্যমে এখন থেকে ইলেকট্রনিক রেজিস্ট্রেশন বা ই–রেজিস্ট্রেশন চালু করা হচ্ছে। এর ফলে সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দলিল উপস্থাপন ও নিবন্ধন করা যাবে।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। অধ্যাদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংসদ ভেঙে যাওয়ায় এবং জরুরি পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেছেন।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭ক–ছ-এর উপধারা (২)-এ উল্লিখিত দলিল নিবন্ধনের সময়সীমা ৩০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধারা ২৬-এর অনুচ্ছেদ (খ)-এ উল্লিখিত সময়সীমা ৪ মাসের পরিবর্তে বাড়িয়ে ৬ মাস করা হয়েছে।

হেবা ও দান নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ধারা ৫২ক সংশোধন করে দলিল নিবন্ধনের আওতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিক্রয়ের পাশাপাশি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) অনুযায়ী হেবা ঘোষণা এবং হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ব্যক্তিগত আইনের অধীনে দানের ঘোষণাও নিবন্ধনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘বিক্রেতা’ শব্দের সঙ্গে ‘অথবা দাতা’ শব্দ যুক্ত করা হয়েছে।

নিবন্ধনে অনিয়মের দায় নির্ধারণে ধারা ৬৮ সংশোধন করে নতুন উপধারা (৩) সংযোজন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধন কর্মকর্তা যদি যথাযথ ফি, কর, সার্ভিস চার্জ বা শুল্ক আদায় না করে দলিল নিবন্ধন করেন, তবে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং অনাদায়ী অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে আদায় করা হবে।

আপিল ও আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। অধ্যাদেশে ধারা ৭২ সংশোধন করে উপধারা (১ক) যুক্ত করা হয়েছে, যার আওতায় আপিল দাখিলের তারিখ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রার আপিল নিষ্পত্তি করবেন। পাশাপাশি ধারা ৭৩ সংশোধন করে নতুন উপধারা (৩) যুক্ত করা হয়েছে, যাতে আবেদন দাখিলের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে।

ই–রেজিস্ট্রেশন চালুর জন্য অধ্যাদেশে নতুন অংশ দ্বাদশ (ক) সংযোজন করে ধারা ৭৭(ক) যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে দলিল উপস্থাপন, নিবন্ধনের জন্য গ্রহণ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে দলিল নিবন্ধন করা যাবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধি সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রণয়ন করবে।

অধ্যাদেশে ধারা ৮০ প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে, দলিল উপস্থাপনের সময়ই সংশ্লিষ্ট সব ফি, কর, সার্ভিস চার্জ ও শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। এসব অর্থ আদায়ের পদ্ধতি এবং সার্ভিস চার্জ ব্যবহারের বিষয়ে সরকার গেজেটের মাধ্যমে বিধি প্রণয়ন করবে।

আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!