দেশে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায় সুশাসন নিশ্চিত করা, টিকিটের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং অভিবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। সংশোধিত আইন অনুযায়ী অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির পরিমাণ ১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এ অধ্যাদেশ জারি করেন। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নতুন অধ্যাদেশে অনলাইন এবং অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংক গ্যারান্টির বিধান রাখা হয়েছে। অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্যারান্টির পরিমাণ ১০ লাখ টাকা।
অধ্যাদেশে ‘ফলস বুকিং’ বা বানোয়াট আসন সংরক্ষণের মাধ্যমে টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো ট্রাভেল এজেন্সি অন্য কোনো এজেন্সির কাছ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় (B2B) করতে পারবে না। এছাড়া টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত আর্থিক মাধ্যম ছাড়া লেনদেন করা যাবে না।
গ্রাহক স্বার্থ রক্ষার জন্য অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, কোনো ট্রাভেল এজেন্সি মিথ্যা প্রলোভন, প্রতারণা বা চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ আদায় করতে পারবে না। অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় এবং টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন করাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
শাস্তির বিধানও কঠোর করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা এজেন্সিকে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। বিশেষ ক্ষেত্রে প্রতারণা বা দুর্নীতি রোধে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।
নিবন্ধন নবায়নের ক্ষেত্রে প্রতি ৩ বছর অন্তর সনদ নবায়ন বাধ্যতামূলক হবে এবং প্রতি বছর সরকারকে আর্থিক বিবরণীসহ সার্বিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। ঋণখেলাপি ব্যক্তি ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধনের অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!