লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন নিহত ও ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত, ১৩৯ জন আহত এবং ৩৮ জন নিখোঁজ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৮৩ জন নিহত ও ২ হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছেন।
মো. মোজাম্মেল হক জানান, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ৬.৯৪ শতাংশ, নিহত ৫.৭৯ শতাংশ এবং আহত ১৪.৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ২০২৪ সালের তুলনায়। দুর্ঘটনার ৩৮.২২ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.১৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২৮.৮৩ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতার পালাবদল হলেও সড়কের নীতি পরিবর্তন না হওয়ায় দুর্ঘটনা ও যাতায়াতের ভোগান্তি বেড়েছে। যানজট ও চাঁদাবাজির কারণে ভাড়া বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সড়ক পরিবহন খাত সংস্কার না করায় সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি।”
সংবাদ সম্মেলনে যেসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারেই সড়ক নিরাপত্তা, উন্নত গণপরিবহন ও যাত্রী অধিকার অন্তর্ভুক্ত করা।
নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য প্রার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা ও যাতায়াতের ভোগান্তি লাঘবের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা।
সড়ক নিরাপত্তায় বাজেট বৃদ্ধি ও সড়ক নিরাপত্তা উইং চালু করা।
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদান।
ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা।
পরিবহন সেক্টরে সুশাসন ও অনিয়ম বন্ধ করা।
গাড়ি নিবন্ধন, ফিটনেস ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে উন্নত কারিকুলাম চালু করা।
ইলেকট্রিক এসি বাস নেটওয়ার্ক চালু করে ধুলাদূষণ কমানো।
প্রযুক্তি নির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বৈধ ও অবৈধ যানবাহনের জন্য আলাদা লেন প্রবর্তন।
জাতীয় মহাসড়কে ছোট যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন তৈরি।
সিদ্ধান্ত গ্রহণে মালিক, শ্রমিক ও ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!