আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গৃণভোট পর্যবেক্ষণে অংশ নিতে আগত বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা ও খাবারের যাবতীয় খরচ বহন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য বিশ্বের ২৬টি দেশ ও ৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এসব দেশ ও সংস্থা থেকে মোট ৮৩ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আবাসন ও খাবারের সম্পূর্ণ ব্যয় নির্বাচন কমিশনের তহবিল থেকেই বহন করা হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা তুলে ধরতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থার বার্তা দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগের সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতির চিত্র ভিন্ন ভিন্ন ছিল। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০২৪) পর্যবেক্ষণে বিদেশি ও দেশীয় মিলিয়ে বড় পরিসরে পর্যবেক্ষক অংশ নেন। সে নির্বাচনে ৪০টি পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫১৭ জন বিদেশি এবং দেশীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের ২০ হাজার ২৫৬ জন প্রতিনিধি ভোট পর্যবেক্ষণ করেন।
একাদশ সংসদ নির্বাচন (২০১৮) পর্যবেক্ষণে দেশীয় পর্যবেক্ষক ছিলেন ৮১টি প্রতিষ্ঠানের ২৫ হাজার ৯০০ জন। বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে কমনওয়েলথ, ওআইসি, ফেমবোসা ও এএইএ থেকে ৩৮ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মিশনের ১২৫ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
দশম সংসদ নির্বাচন (২০১৪) সব দল অংশ না নেওয়ায় পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম। সে সময় মাত্র ৪ জন বিদেশি এবং ৮ হাজার ৮৭৪ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচনে অংশ নেন।
নবম সংসদ নির্বাচন (২০০৮) পর্যবেক্ষণে রেকর্ড সংখ্যক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি ছিল। সে নির্বাচনে ১ লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন দেশীয় এবং ৫৯৩ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেন।
রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। ওই নির্বাচনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন সময় প্রশ্ন তোলে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার আগেভাগেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমন্ত্রণ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের আশা, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!