ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, মূল নায়কদের ছাড়া দায়সারা চার্জশিট জনগণ মেনে নেবে না।
আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় শাহবাগ চত্বরে আয়োজিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচিতে জাবের বলেন, “ভাড়াটে খুনিদের নাম দেখিয়ে মূল পরিকল্পনাকারীদের আড়াল করে দায়সারা চার্জশিট দাখিল করা হলে তা জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। এটা বিচার নয়, জাতির সঙ্গে প্রতারণা হবে।”
তিনি বলেন, গত ১২ ডিসেম্বর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইনসাফের লড়াইয়ের প্রতীক হাদি গুলিবিদ্ধ হন এবং ১৮ ডিসেম্বর তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। “আমরা শুরু থেকেই অবরোধ, শহীদী শপথ, সমাবেশ ও মানববন্ধনসহ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বলেছি। কিন্তু ১৯ দিনেও সরকার এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি যা মানুষকে আশ্বস্ত করতে পারে।”
জাবের বলেন, “ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর খুনের ছোট গুটি। তারা টাকার বিনিময়ে খুন করেছে। কিন্তু খুনের নির্দেশদাতা এবং মূল পরিকল্পনাকারীরা কে? চার্জশিটে শুধুমাত্র ছোট গুটিদের নাম দেখালে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে।”
সমাবেশে চার দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন—
খুনি ও পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
১৭ বছর ধরে গুম-খুন ও জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের আন্তর্জাতিক বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী ফেরত পাঠাতে হবে।
ভারত সহযোগিতা না করলে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।
গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক কাঠামোয় সক্রিয় ভারতীয় এজেন্টদের শনাক্ত করে বিচার করতে হবে।
আবদুল্লাহ আল জাবের হাদিকে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠস্বর ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “তার হত্যা কেবল একজন ব্যক্তির ক্ষতি নয়, এটি প্রতিবাদী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার চেষ্টা।”
কর্মসূচির রুটে শাহবাগ থেকে শুরু করে সায়েন্সল্যাব, সিটি কলেজ, মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড়, মিরপুর ১০, উত্তরা বিএনএস সেন্টার, যমুনা ফিউচার পার্ক, বাড্ডা, রামপুরা টিভি সেন্টার ও যাত্রাবাড়ী পার্কসহ ঢাকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্পট ঘুরে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে পুনরায় শাহবাগে সমাপনী জমায়েত হবে।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাবের বলেন, “জুলাইয়ের চেতনায় ন্যায়বিচারের দাবিকে রাজপথে দৃশ্যমান করুন। এই লড়াই ন্যায় প্রতিষ্ঠার লড়াই। চার্জশিটে সত্য থাকতে হবে, কোনো মুখোশ নয়।”
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!