জাতীয়

সবার উচিত অন্যের দোষ না খুঁজে আত্মসমালোচনা করা : আসিফ নজরুল

আপডেট: জানু ১১, ২০২৬ : ০৫:২২ এএম
সবার উচিত অন্যের দোষ না খুঁজে আত্মসমালোচনা করা : আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, কাগজ বা আইন দিয়েই সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ইসলাম ধর্মেও আত্মসমালোচনাকে বড় গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই আমাদের সবারই উচিত অন্যের দোষ খোঁজার আগে নিজের অবস্থান ও আচরণ নিয়ে আত্মসমালোচনা করা।

আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ নজরুল বলেন, আমরা কি নিজেরা চিন্তাভাবনা ও সততার জায়গায় সংস্কার আনতে পেরেছি? রাজনৈতিক দল, এনজিও, সংবাদমাধ্যম কিংবা অ্যাক্টিভিস্ট সংগঠনগুলো কি নিজেদের ভেতরে সংস্কার করেছে? সবাই একে অপরকে দোষারোপ করছে, কিন্তু নিজেদের পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। শুধু আইন করলেই মানুষ ম্যাজিকের মতো ভালো হয়ে যাবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ইংল্যান্ডে লিখিত সংবিধান না থাকলেও সেখানে সুশাসন রয়েছে। অথচ আফ্রিকার বহু দেশে অসংখ্য ভালো আইন থাকা সত্ত্বেও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
আইন উপদেষ্টা বলেন, সরকারের কাজেরও ন্যায্য মূল্যায়ন হওয়া উচিত। সরকার যদি ১০টি কাজের মধ্যে চারটি ভালো করে, সেটির স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। বাকি ছয়টি কাজের সমালোচনা করতেই পারে সবাই। কিন্তু কিছুই হয়নি—এভাবে প্রচার করা সৎ সমালোচনার পর্যায়ে পড়ে না।
সংস্কার বিষয়ে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি ও বাজেট ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা উচ্চ আদালতের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। গুম কমিশন গঠন করা হয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় উন্নত। শিগগিরই এই আইনের আওতায় কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) ও দেওয়ানি কার্যবিধিতেও (সিপিসি) যুগান্তকারী সংস্কার আনা হয়েছে। লিগ্যাল এইড কার্যক্রম আগের চেয়ে দশগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ বিনা খরচে আইনি সহায়তা পাচ্ছে। এই কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে ব্র্যাক সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম ২০ গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীনভাবে কথা বলার পরিবেশ ফিরে পেয়েছে। অর্থনীতিতেও স্বস্তি এসেছে—বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরছে। বিরোধী দল ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ২০ হাজারের বেশি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যেখানে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ আসামি ছিলেন।
তিনি বলেন, গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন তিনি নিজেই। দীর্ঘদিন তাঁকে পাকিস্তানের দালাল বলা হয়েছে, এখন ভারতপন্থী বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাঁর আমেরিকায় বাড়ি আছে—এমন মিথ্যা তথ্যও ছড়ানো হয়েছে, যার কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি। এসব অপপ্রচারই সবচেয়ে জঘন্য সাইবার বুলিং।
জামিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব জামিন দেওয়া হয়েছে, তার ৯০ শতাংশই দিয়েছে হাইকোর্ট। জামিন দেওয়ার এখতিয়ার বিচারকের। এতে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা নেই। তবু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আইন উপদেষ্টাকে দায়ী করা হচ্ছে।
পলিসি ডায়ালগে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভুঁইয়া।


আরএস

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!