বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম গবেষণাকে প্রতিরোধ ও নিরাময়মুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, গবেষণা হতে হবে দেশের মানুষের বাস্তব প্রয়োজনকে সামনে রেখে—যা সরাসরি রোগীর কল্যাণে কাজে আসে এবং রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।
আজ শনিবার সকালে বিএমইউর এ ব্লক অডিটোরিয়ামে থিসিস, গবেষণাপত্র ও গবেষণা প্রতিবেদন লেখার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য। কর্মশালায় ফেজ-বি পর্যায়ের ৭০০ জন রেসিডেন্ট শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক অংশ নেন।
উপাচার্য বলেন, গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কোনো সমস্যার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা, এর কারণ নিরূপণ করা এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। পাশাপাশি গবেষণার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হওয়া প্রয়োজন এবং তা আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে প্রকাশের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের গবেষণালব্ধ জ্ঞান যথাযথভাবে বিশ্লেষণ ও অনুবাদ করে দেশের বাস্তবতায় প্রয়োগ করা সম্ভব। গবেষণার ফল চিকিৎসা কার্যক্রমে যুক্ত হলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে। আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, শিক্ষক ও গবেষক গড়ে তুলতে বিএমইউ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ডিজিটাল যুগে মানসম্মত থিসিস ও গবেষণাপত্র রচনার জন্য হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। এ কারণেই রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের জন্য এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আজকের রেসিডেন্টরাই ভবিষ্যতে দক্ষ চিকিৎসক ও গবেষক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় নেতৃত্ব দেবেন—এটাই প্রত্যাশা।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার ইরতেকা রহমান, অতিরিক্ত গ্রন্থাগারিক সুফিয়া বেগম, উপ-গ্রন্থাগারিক ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. নাহিদুজ্জামান সাজ্জাদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!