জাতীয়

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিরাপদ জেনেটিক প্রযুক্তি ব্যবহার জরুরি: মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

আপডেট: জানু ১৭, ২০২৬ : ০৫:৪৭ পিএম ১১
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিরাপদ জেনেটিক প্রযুক্তি ব্যবহার জরুরি: মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার কৃষক, বিজ্ঞানী ও নীতি নির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, স্থানীয় প্রজাতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা, কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণের প্রভাব থেকে সতর্ক থাকা এবং নিরাপদ জেনেটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

আজ শনিবার সকালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আয়োজিত ১ম আন্তর্জাতিক লাইফ সায়েন্স, হেলথ অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি যবিপ্রবি’র জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ আয়োজন করে, যা জীবন বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও জৈবপ্রযুক্তি খাতে জ্ঞান বিনিময়, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

উপদেষ্টা বলেন, “আমরা বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের সমর্থক, তবে কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। জেনেটিক পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে, তবে মালিকানা ও অধিকার অবশ্যই স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের স্বার্থে হতে হবে।” তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রজাতি রক্ষা ও টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের কৃষি ও জলজ সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি সতর্ক করে বলেন, জেনেটিক মডিফিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ভিদ বা প্রাণীকে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা মানবিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে স্থানীয় প্রজাতি চাষ করা কৃষকরা তাদের অধিকার হারাতে পারেন।

মৎস্য উপদেষ্টা আরও বলেন, মাছ কেবল পুষ্টির উৎস নয়, বরং ত্বকের যত্ন ও কসমেটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো পণ্য তৈরি হলে তা সকল মানুষের জন্য সহজলভ্য হওয়া উচিত। বাংলাদেশ জলজ বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ, যা দেশের জলজ সম্পদ সংরক্ষণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে স্থানীয় বাগদা চিংড়ি স্বাদ ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু মৎস্য শিল্প সংশ্লিষ্টরা ভেনামি চিংড়ি চাষে পোনা আমদানির আবেদন করলেও, দেশীয় প্রজাতি গলদা-বাগদা উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নকীব মুহাম্মদ নাসরুল্লাহ, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নাজমুল আহসান, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস. এম. আব্দুল আওয়াল এবং যবিপ্রবি’র কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. হোসাইন আল মামুন। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন যবিপ্রবি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মাজিদ।

পরে বিকেলে উপদেষ্টা যশোরে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্বাদুপানি উপকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় মৎস্য উৎপাদন, গবেষণা কার্যক্রম ও প্রযুক্তি উন্নয়নের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুনর রশিদ, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উপকেন্দ্র প্রধান ড. আখেরী নাঈমসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীরা।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!