জাতীয়

জামায়াতে ইসলামী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

আপডেট: জানু ১৮, ২০২৬ : ০৫:৪০ পিএম ১০
জামায়াতে ইসলামী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে অংশ নেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, মিয়া গোলাম পরওয়ার ও রফিকুল ইসলাম খান।

এ সময় উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

বৈঠকে নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। জামায়াতে ইসলামী নেতারা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পূর্ণ উদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। তারা উল্লেখ করেন, গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারণা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে; ২২ জানুয়ারি থেকে এটি পাশাপাশি চলবে।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “যেভাবেই হোক আমাদের ভালো নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত আমাদের জানালে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হবে; সরকারের প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি জানান, কেন্দ্রগুলোকে দ্রুত সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা থাকবে এবং সবকিছু কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটর করা হবে। ফুটেজ রেকর্ড করা থাকবে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটামাত্রই ব্যবস্থা নেয়া যায়।

গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা আইনসম্মত কি না সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব সংস্কারের পক্ষে থাকা।”

তিনি আরও বলেন, “এবারের ভোট ও গণভোট সফলভাবে করতে হবে। যে যাই বলুক না কেন, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচন কোনো গোজামিলের নির্বাচন হবে না। সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ করতে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলদের সহযোগিতা দরকার।”

নির্বাচনের সময় স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভূত বিরোধ নিরসনের জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া একটি হটলাইন নম্বর চালু থাকবে, যেখানে সব ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করা হবে।

প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, “নির্বাচনে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন সফল করতে হবে এবং দেশের জন্য কাজ করতে হবে।”

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!