আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বিচার বিভাগে ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে বিচারপ্রার্থী মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমেছে। তিনি বলেন, “‘ই-বেইল বন্ড’ প্রবর্তনের ফলে জামিন পাওয়ার পর আর কাউকে অনর্থক সময় বা সপ্তাহকাল কারাগারে থাকতে হবে না।”
আজ বুধবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের আটটি জেলায় একযোগে ‘ই-বেইল বন্ড ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগে জামিন মঞ্জুরের পর মুক্তি পেতে অনেক ধাপ অতিক্রম করতে হতো। এতে বিচারপ্রার্থীরা অপ্রয়োজনীয় সময় ও অর্থ ব্যয় এবং মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতেন। অনেক ক্ষেত্রে জামিন পাওয়ার পরও মুক্তি নিতে কয়েক দিন বা সপ্তাহকাল লেগে যেত।
ড. আসিফ নজরুল জানান, “নতুন ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিচারকের স্বাক্ষরের পর বেইল বন্ড সরাসরি ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেলখানায় পৌঁছে যাবে, ফলে কারাগারে আটক ব্যক্তি কয়েক ঘণ্টা বা সর্বোচ্চ একদিনের মধ্যেই মুক্তি পাবেন।”
তিনি আরও বলেন, “এই সিস্টেমে প্রতিটি ধাপের তথ্য এবং কে কখন স্বাক্ষর করেছেন তা ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। এতে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। এছাড়া অভিযুক্ত ও তাদের পরিবারের যাতায়াত খরচ হ্রাস পাবে এবং সরকারের অপ্রয়োজনীয় কারা ব্যয়ও সাশ্রয় হবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোঃ মোতাহের হোসেন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস. এম. এরাশাদুল আলম ও মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইনজীবী, কারা অধিদপ্তর ও পুলিশের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!