নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিল্পকারখানার বর্জ্য শীতলক্ষ্যা নদী হয়ে মেঘনায় মিশে ইলিশ মাছসহ নানা জলজ প্রাণীর অস্তিত্বকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে। গবেষণায় ইলিশ মাছের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক, সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, নদীকে দূষণমুক্ত রাখা শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা অপরিহার্য।
শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফরিদা আখতার। তিনি অনুষ্ঠানে আচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা বলেন, শিল্পবর্জ্যের কারণে ইলিশের অস্তিত্ব মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় জনসচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো গরিব দেশ নয়। মানুষের দক্ষতা, সুপেয় পানি, ফসলের বীজ ও জেনেটিক সম্পদই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আগামী দিনে পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক সংকট বা সংঘাত তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি তরুণ প্রজন্মকে দেশের সম্পদ রক্ষায় সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ফরিদা আখতার বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় শুধু গবাদিপশু নয়, কুকুর-বিড়ালসহ সব প্রাণীর সুরক্ষায় কাজ করছে। কুকুরের টিকাদানের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত পেট কার্নিভালের উদাহরণ তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ধূমপান বা তামাক সেবন কোনোভাবেই স্মার্টনেসের পরিচয় নয়; বরং এটি ক্যানসারসহ নানা মারাত্মক রোগের কারণ। ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রণীত নতুন আইন সবার জন্য বাধ্যতামূলক বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
নিজেদের আচরণ, পেশাদারিত্ব ও চারিত্রিক গুণাবলির মাধ্যমে অর্জিত ডিগ্রির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের বিরুদ্ধে তরুণদেরই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আশার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস এম রেজাউল করিম স্বাগত বক্তব্য দেন। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিনিধি অধ্যাপক মোহাম্মদ ফারুক।
অনুষ্ঠানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ছয়জন শিক্ষার্থীকে ‘চ্যান্সেলরস অ্যাওয়ার্ড’ এবং নয়জন শিক্ষার্থীকে ‘ভাইস-চ্যান্সেলরস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!