জাতীয়

জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

আপডেট: জানু ২৬, ২০২৬ : ০৫:০৬ এএম
জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে নতুন মামলা না করার বিধান রেখে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটির গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ কিংবা কার্যধারা আইন অনুযায়ী প্রত্যাহার করা হবে। এ কারণে নতুন করে কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা দায়ের করা যাবে না।

অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়, যা ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ওই সময়ে নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল করতে আত্মরক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে কোনো মামলা দায়ের হলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকার নিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন দাখিল করা হবে। আবেদন পাওয়ার পর আদালত মামলাটি প্রত্যাহার হয়েছে বলে গণ্য করবেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।

তবে কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে। কমিশন অভিযোগ তদন্ত করবে। এ ক্ষেত্রে যিনি নিহত হয়েছেন তিনি যদি কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা কোনো প্রতিষ্ঠানের সদস্য হয়ে থাকেন, তবে ওই বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানে বর্তমান কিংবা সাবেক কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ আছে।

তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে।

কমিশনের তদন্তে যদি দেখা যায় অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলকভাবে সংঘটিত হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেবে।

আর যদি কমিশন মনে করে অভিযোগে উল্লিখিত কার্যকলাপ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, সে ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে কমিশন। এ বিষয়ে আদালতে কোনো মামলা বা অন্য আইনি কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!