বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার গত বছরের তুলনায় আরও স্থিতিশীল থাকবে। তাঁর ভাষায়, গত বছরের চেয়ে এ বছর রমজান হবে বেশি স্বস্তিদায়ক। কিছু কিছু পণ্যের দাম কমারও সম্ভাবনা রয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটির ১০ম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, চলতি বছরে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি নিত্যপণ্য আমদানি করা হয়েছে। এ কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা আমদানি ও উৎপাদনের পরিমাণ বিশ্লেষণ করেছি। এতে দেখা গেছে, এ বছরের রমজানের বাজার গত বছরের চেয়েও ভালো থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা সরকারকে আশ্বস্ত করেছেন যে রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহে কোনো ঘাটতি থাকবে না। দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং কিছু পণ্যের দাম কমতেও পারে।
নেত্রকোনায় এক অনুষ্ঠানে পদ্মা সেতু নির্মাণের কারণে চালের দাম বেড়েছে—এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল ও পায়রা বন্দরের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে সরকারের আর্থিক দায় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে টাকার মূল্যমানের ওপর, যার সরাসরি প্রভাব নিত্যপণ্যের দামে পড়ে।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার সময় দেশের আন্তর্জাতিক দেনার পরিমাণ ছিল প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ২৩ লাখ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। এর ফলে টাকার অবমূল্যায়ন প্রায় ৪৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টার ভাষ্য, ঋণনির্ভর উন্নয়ন ব্যয় থেকে প্রত্যাশিত আয়ের উদ্বৃত্ত তৈরি না হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছে, যার প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতি ও নিত্যপণ্যের বাজারে পড়েছে।
সভায় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!