জাতীয়

সরকারে যে–ই থাকুক, চীন–বাংলাদেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকতে হবে: ড. ইউনূস

আপডেট: জানু ৩১, ২০২৬ : ০৫:৫০ এএম
সরকারে যে–ই থাকুক, চীন–বাংলাদেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকতে হবে: ড. ইউনূস

সরকারে যে–ই আসুক, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে যে কাজগুলো শুরু হয়েছে, সেগুলো ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় চীন–বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ফোরামের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। আজ শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে চীন সরকারের অব্যাহত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

চীনের সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্ট চায়না স্কুল অব মেডিসিনের পরিচালক ও খ্যাতনামা বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী সিন-ইউয়ান ফু বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের সঙ্গে যৌথভাবে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে তারা আগ্রহী।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজির পরিচালনা পর্ষদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জিলং ওং এবং ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেক (সিঙ্গাপুর)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউচিং ইয়াও বাংলাদেশে তাদের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অন্তত ২২টি দেশে টিকা রপ্তানি করা প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পিসিভি ও এইচপিভি টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে তারা জানান।

চীনা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটালাইজেশন বিষয়ে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস মাইক্রোক্রেডিট আন্দোলনের সূত্র ধরে চীনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, চীনের প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে মানুষের জীবনে পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি, যা পরবর্তী সময়ে চীনের নিজস্ব কর্মসূচিতে প্রতিফলিত হয়েছে।

গত বছরের মার্চে চীন সফরের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট তাকে জানিয়েছেন যে তিনি তাঁর বই পড়েছেন এবং নীতিগুলো অনুসরণ করেছেন—যা তার জন্য আনন্দের মুহূর্ত ছিল।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি দায়িত্ব ছাড়লেও বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সহযোগিতা অব্যাহত থাকতে হবে। বৈঠকে স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকারের শীর্ষে রয়েছে স্বাস্থ্যখাত।

বৈঠক শেষে ধারাবাহিক সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য অধ্যাপক ইউনূস চীনা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!