জাতীয়

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৯৫, আহত ১১ হাজারের বেশি

আপডেট: ফেব ০৪, ২০২৬ : ০৩:৫৭ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৯৫, আহত ১১ হাজারের বেশি

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ১৯৫ জন নিহত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে গণপিটুনি, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও সীমান্ত হত্যাসহ নানা ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

মানবাধিকার সহায়তা সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এ তথ্য জানিয়েছে। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী মানবাধিকার পরিস্থিতি ও প্রাক্‌-নির্বাচনী সহিংসতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৭ মাসে দেশে ১ হাজার ৪১১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১১ হাজার ২১৯ জন আহত হন। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, নির্বাচনী বিরোধ, চাঁদাবাজি ও স্থাপনা দখলকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

রাজনৈতিক সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিএনপি। প্রতিবেদনে বলা হয়, দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৭০৪টি ঘটনায় ১২১ জন নিহত ও ৭ হাজার ১৩১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের প্রায় ৭০ শতাংশ বিএনপির নেতাকর্মী, ১৭ শতাংশ আওয়ামী লীগের এবং বাকিরা অন্যান্য দল ও অজ্ঞাত পরিচয়ের।

নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতার প্রবণতা বাড়ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর—এই তিন মাসে অন্তত ১৫৫টি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় ৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ৪০৩ জন আহত হয়েছেন।

গণপিটুনি ও মব সহিংসতা

গত ১৭ মাসে দেশে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৪১৩টি ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত এবং ৩১৩ জন আহত হয়েছেন। চোর সন্দেহ, ছিনতাই ও সামাজিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সাংবাদিক নির্যাতন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

এই সময়কালে সাংবাদিকদের ওপর ৪২৭টি হামলার ঘটনায় ৬ জন নিহত এবং ৮৩৪ জন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনের প্রয়োগে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে এইচআরএসএস।

বিচারবহির্ভূত হত্যা ও কারা হেফাজতে মৃত্যু

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনায় অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে কারাগারে মারা গেছেন কমপক্ষে ১২৭ জন বন্দী।

সংখ্যালঘু, মাজার ও সীমান্ত পরিস্থিতি

১৭ মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, ভাঙচুর হয়েছে মন্দির ও বাড়িঘর। এছাড়া শতাধিক মাজার ও বাউলদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ও হামলায় অন্তত ৪৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এইচআরএসএস বলছে, অন্তর্বর্তী সরকার মানবাধিকার উন্নয়নে কিছু উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত ছিল। ফলে নাগরিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!