জাতীয়

সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট: ফেব ০৫, ২০২৬ : ০৫:০৪ পিএম
সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না: প্রধান উপদেষ্টা

সরকারি সেবা প্রদান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের দুর্নীতি থাকবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতা এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং ফাইল আটকে থাকার সংস্কৃতি বন্ধ হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন হস্তান্তরকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) এ প্রতিবেদনটি জমা দেয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘লক্ষ্য একটাই—নাগরিক সেবার জন্য কোনো ব্যক্তি বা অফিসে যাবে না; বরং সরকারের সেবা পৌঁছে যাবে নাগরিকের কাছে।’

গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের নবম সভায় জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নের নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। সেই নির্দেশনার আলোকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কারিগরি সহায়তায় জিআইইউ এ মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়। সেগুলো হলো—বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি), বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিয়াম ফাউন্ডেশন, জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমি (নাডা) এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি (এনএপিডি)।

প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অবকাঠামো থাকলেও দক্ষ জনবল নেই, আবার অনেক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি পুরোনো ও গৎবাঁধা। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণকে সমস্যা সমাধানমুখী করতে হবে। এ ছাড়া কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে নম্বর ও প্রণোদনার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে র‍্যাংকিং চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এসব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী হন এবং তা নিয়ে গর্ববোধ করেন।

কমিটির সদস্যরা জানান, দেশে এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন এই প্রথম। এ কারণে মানদণ্ড ও সূচক নির্ধারণে ‘লার্নিং বাই ডুয়িং’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। একাডেমিয়া, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ওয়ার্কিং ও স্টিয়ারিং কমিটির মতামতের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হয়।

প্রতিবেদনে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর গুণগত মান বৃদ্ধিতে পর্যায়ভিত্তিক সুপারিশ করা হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়বে এবং জনসেবা আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়েরসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!