৫ আগস্টের পরের সময়টি ছিল বাংলাদেশ পুলিশের জন্য এক সংকটকালীন অধ্যায়। রাজনৈতিক পরিবর্তন, জনমতহীনতা এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে পুলিশের মনোবল ও ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান গোলাম রসুল নীরবভাবে, কিন্তু কার্যকরভাবে পুলিশ পুনর্গঠন ও জনমুখী ইমেজ ফিরিয়ে আনার কাজ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে গোয়েন্দা ইউনিট পর্যন্ত তিনি পেশাদারিত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাজেও গোলাম রসুলের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কমিশনের আলোচনায় পুলিশ কাঠামো, জবাবদিহি, জনসম্পৃক্ততা এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমের নৈতিক সীমা নির্ধারণে তার পরামর্শ কাজে এসেছে। তার দৃষ্টিভঙ্গিতে পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাদার ও নাগরিকবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা যায়।
গোলাম রসুল বরাবরই মানবিক পুলিশ বাহিনী গঠনের তাগিদে কাজ করেছেন। কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার রক্ষা, পরিস্থিতি অনুযায়ী সংযম ও মানবিক আচরণ তার পেশাগত দর্শনের অংশ।
দীর্ঘকাল পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার সত্ত্বেও তিনি সর্বদা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সহকর্মীরা মনে করেন, এই পেশাগত নিষ্ঠা ও মানসিক দৃঢ়তা তাকে সংকটকালে আলাদা করেছে।
বাংলাদেশের সংবেদনশীল আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীতে অভিজ্ঞ, মানবিক ও স্থিরচিত্ত নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি। এই বাস্তবতায় গোলাম রসুলকে দেখা হয় একজন নীরব, কিন্তু কার্যকর নেতা হিসেবে, যিনি কাজের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছেন। তার ভূমিকা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
No comments yet. Be the first to comment!