মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের কার্যক্রম কেবল অর্থনীতি বা বিজ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক আচরণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, ‘আমরা যে মৎস্যসম্পদ নিয়ে কাজ করি, তা আমাদের সামগ্রিক জীবনবোধের অংশ। একে শুধু অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে বিষয়টির পূর্ণতা পাওয়া যাবে না।’
আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে আয়োজিত একটি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, হালদা নদী কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, এটি সাধারণ মানুষের সম্পদ। সে কারণে হালদা নদী নিয়ে করা গবেষণার উপস্থাপনা ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন এমন ভাষায় হওয়া প্রয়োজন, যা সাধারণ মানুষ সহজে বুঝতে পারে। তিনি বলেন, প্রেজেন্টেশন কিংবা শিরোনাম ইংরেজিতে হতে পারে, তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন অবশ্যই বাংলায় প্রকাশ করা উচিত।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক গবেষণায় নারীদের অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফরিদা আখতার বলেন, হালদা নদীপাড়ের বাস্তবতা অনুধাবনের জন্য সেখানকার নারীদের অভিজ্ঞতা ও অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সামাজিক-অর্থনৈতিক গবেষণা পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। গবেষণা পদ্ধতির মধ্যেই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
হালদা নদীর ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডই নদীর জন্য প্রধান হুমকি। ‘এনথ্রোপোজেনিক’ শব্দ ব্যবহার করে বিষয়টিকে আড়াল না করে মানুষের ভুল ও ক্ষতিকর কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। ভুজপুর রাবার ড্যাম নদীর জন্য ক্ষতিকর হলে তা অপসারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। গবেষণা চলমান থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।
নদীতীরবর্তী তামাক চাষের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের চাষাবাদ মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। তিন ফসলি জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কিছুটা সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্লুইস গেট ব্যবস্থাপনা এবং আগ্রাসী প্রজাতির সাকার ফিস নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, সাকার ফিস একটি লুটেরা প্রজাতির মতো। এ ধরনের ‘লুটেরা’ যেন জাতীয় সংসদেও ঢুকতে না পারে, সে জন্য ভালো মানুষ নির্বাচিত করা জরুরি।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর। সম্মানিত অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!