জাতীয়

দুই বছরে বিদ্যুৎ–জ্বালানির কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় না : উপদেষ্টা

আপডেট: ফেব ০৮, ২০২৬ : ০৫:৪১ পিএম
দুই বছরে বিদ্যুৎ–জ্বালানির কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় না : উপদেষ্টা

দুই বছরের মতো স্বল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, সরকারের স্বল্প মেয়াদের কারণে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ পাওয়া যায়নি, ফলে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে জ্বালানি বিভাগের পাঁচটি অ্যাপ উদ্বোধন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মাস্টার প্ল্যান পর্যালোচনা বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘দুই বছরে বিদ্যুৎ–জ্বালানির কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় না। এই খাতে যে বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিল, তা পাওয়া যায়নি সরকারের স্বল্প মেয়াদের কারণে। এমনকি সৌদি আরবের রাজপরিবারের একজন সদস্য আমাদের সরকারের মেয়াদ জানতে চেয়েছিলেন। সরকার আরও দীর্ঘমেয়াদি হলে বিনিয়োগ আসতে পারত।’ তিনি বলেন, আরও একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) প্রয়োজন ছিল, তবে স্বল্প মেয়াদের সরকারের কারণে সেটিও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট মহলকে জানানো হয়েছে। এখন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্ব। তিনি বলেন, একটি জাতীয় কমিটি ও একটি ট্যারিফ কমিটি গঠন করে বেশ কিছু সুপারিশ প্রস্তুত করা হয়েছে, যা পরবর্তী সরকার বিবেচনা করবে।

বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ফাওজুল কবির খান বলেন, আগের সরকারের সময় নেওয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর কোনোটিরই ক্যাবিনেট কমিটির অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এমনকি অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এসব প্রকল্পের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদনই দেওয়া হয়নি।

বিদেশি কোম্পানিগুলোর বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, বকেয়া পরিশোধ না করলে কিছু বিদেশি কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিল। সে কারণে আগে তাদের পাওনা পরিশোধ করতে হয়েছে।

আদানির বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার ইচ্ছামতো আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিল করতে পারে না। এ কারণে এ বিষয়ে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা যায়।

রোজার প্রস্তুতি সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, পুরোপুরি লোডশেডিংমুক্ত থাকা যাবে—এমন দাবি তিনি করছেন না। তবে সামনে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এলপি গ্যাস আমদানিতে দেরি হলেও বর্তমানে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে সংকটের আশঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এবং পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!