জাতীয়

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত জানাল সরকার

আপডেট: ফেব ১৬, ২০২৬ : ০৫:৩০ এএম
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত জানাল সরকার

দীর্ঘ নয় মাসের আলোচনা ও দরকষাকষির পর বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেছে সরকার। কর্মকর্তারা বলছেন, ধাপে ধাপে শুল্ক সুবিধা ও বাজার প্রবেশাধিকারের সুযোগ দেশের রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করবে এবং মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে চুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, চুক্তি বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নেতৃত্ব দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসও আলোচনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল।

শুল্কহার এক শতাংশ কমল
চুক্তির ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্কহার এক শতাংশ কমেছে। এতদিন ২০ শতাংশ থাকলেও এখন তা কমে ১৯ শতাংশ হয়েছে। সরকারি হিসাবে, বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে বাংলাদেশে উৎপাদিত পোশাক মার্কিন বাজারে রপ্তানি করলে আর কোনো পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হবে না। অর্থাৎ মার্কিন কাঁচামালে তৈরি পোশাক সম্পূর্ণ পাল্টা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

২ হাজার ৫০০ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা
মার্কিন বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ২ হাজার ৫০০ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এর মধ্যে ওষুধ, কৃষিজাত পণ্য, প্লাস্টিক ও কাঠজাত পণ্য উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে বাংলাদেশে আমদানি করা মার্কিন পণ্যের জন্য ৭ হাজার ১৩২টি শুল্ক কোড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, ৭ হাজার ১৩২টি শুল্ক কোডের মধ্যে ৪ হাজার ৯২২টি পণ্যের শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই শূন্য হবে। এর মধ্যে ৪৪১টি পণ্য আগে থেকেই শুল্কমুক্ত ছিল। আরও ১ হাজার ৫৩৮টি পণ্যের শুল্ক পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে কমিয়ে শূন্য করা হবে—প্রথম বছরে অর্ধেক, পরবর্তী চার বছরে বাকি অর্ধেক সমান হারে।

৬৭২টি পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক শূন্য হতে সময় লাগবে ১০ বছর। তবে ৩২৬টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়নি।

বাণিজ্য সহজীকরণ ও নীতিগত অঙ্গীকার
চুক্তিতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ, কারিগরি বাধা হ্রাস, বিনিয়োগ, ই-কমার্স, সরকারি ক্রয়, শ্রম ও পরিবেশ সুরক্ষা, প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকার সংরক্ষণ, খাদ্য ও কৃষিপণ্যের আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, মার্কিন সনদ স্বীকৃতি এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ও চুক্তিতে রয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, মার্কিন পণ্যের শুল্ক সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। প্রথম বছরে নির্বাচিত কিছু পণ্যে শুল্ক কমবে, পরবর্তী বছরগুলোতে তা সম্প্রসারিত হবে।

চুক্তিতে উল্লেখ আছে, কোনো পক্ষ একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করতে পারবে না। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শর্তযুক্ত বহির্গমন ধারা রাখা হয়েছে।

সরকারের প্রত্যাশা
সরকারি বিশ্লেষকদের মতে, এ চুক্তি রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি ওষুধ, কৃষিপণ্য ও হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানিও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!