জাতীয়

নতুন মন্ত্রিপরিষদের ৩৫ জনই ব্যবসায়ী

আপডেট: ফেব ১৯, ২০২৬ : ০৫:৫৮ এএম
নতুন মন্ত্রিপরিষদের ৩৫ জনই ব্যবসায়ী

বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিপরিষদে ৫০ সদস্যের মধ্যে ৩৫ জন বা ৭০ শতাংশই ব্যবসায়ী। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের হলফনামা অনুযায়ী, ১৯ জন মন্ত্রী ও ১৬ জন প্রতিমন্ত্রী তাদের পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। ব্যবসার পর মন্ত্রিপরিষদে সবচেয়ে বেশি স্থান পেয়েছেন আইনজীবীরা।

পেশায় রাজনীতিবিদ:
মন্ত্রিপরিষদের মাত্র দুজন নিজের পেশা রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন হলফনামায় পেশা ‘রাজনীতি’ উল্লেখ করেছেন। বাকি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা রাজনীতির পাশাপাশি অন্য পেশা পালন করছেন।

বেশি সংখ্যক ব্যবসায়ী মন্ত্রী:
হলফনামা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এবং ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু পেশায় ব্যবসায়ী।

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট, শ্রম, তথ্য ও সম্প্রচার, কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, গৃহায়ন, স্বাস্থ্য, ডাক, সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনসহ অন্যান্য মন্ত্রীরাও ব্যবসায়ী হিসেবে হলফনামায় তথ্য দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ১৬ জনও পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন।

আইনজীবী ও চিকিৎসক:
আইনজীবী হিসেবে ৬ জন এবং চিকিৎসক হিসেবে ২ জন মন্ত্রীর হলফনামায় তথ্য রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পেশা হিসেবে আইন ও ব্যবসা উভয়ই উল্লেখ করেছেন।

ভিন্ন পেশার মন্ত্রীরা:
কিছু মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক পেশার তথ্য দিয়েছেন। যেমন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেশা হিসেবে ব্যবসা, পরামর্শক, কৃষি আয়, ব্যাংক মুনাফা ও সম্মানী ভাতা উল্লেখ করেছেন। টেকনোক্র্যাট কোটায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদ।

বিশ্লেষক ও ব্যবসায়িক মতামত:
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, ব্যবসায়ীদের আধিক্য সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। মন্ত্রীদের উচিত নিজস্ব ব্যবসায়িক স্বার্থ থেকে দূরে থেকে জনস্বার্থভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

অপরদিকে, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকীন আহমেদ ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তিনি বলেন, “নতুন মন্ত্রিপরিষদের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বাজারের সমস্যা ও অস্থিরতা বোঝেন এবং সমাধান গ্রহণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।”

পটভূমি:
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী ১৭৪ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৫৯ শতাংশ ব্যবসায়ী। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদে ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ছিল ১৮ শতাংশ, যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৯১ সালে ৩৮ শতাংশ এবং বর্তমান মন্ত্রিপরিষদে ৭০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!