ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ফুলে ঢেকে যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদি। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীতে নামে মানুষের ঢল। খালি পায়ে, হাতে ফুল আর হৃদয়ে গভীর আবেগ নিয়ে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সারিবদ্ধভাবে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
আজ শনিবার প্রথম প্রহর থেকেই শহীদ মিনার এলাকা ছিল মানুষের পদচারণায় মুখর। সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা একে একে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের দিকে দীর্ঘ সারি। শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও বাংলাদেশ স্কাউটস-এর সদস্যরা। তাঁদের সহযোগিতায় ধীরগতিতে এগিয়ে যায় শ্রদ্ধার মিছিল।
শ্রদ্ধা জানাতে আসে ইডেন মহিলা কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ছায়ানট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, উদিচী শিল্পীগোষ্ঠী ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন-সহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
সংগঠনের বাইরে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে শহীদ মিনারে আসেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ শিশুদের হাত ধরে। শিশুদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শোনাতে দেখা যায় অনেক অভিভাবককে।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই দিন আমাদের প্রেরণার দিন। ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই স্বাধীনতার পথচলা। যখন শাসকগোষ্ঠী আমাদের মাতৃভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, তখন ছাত্ররা রক্ত দিয়ে বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইতিহাসে এমন উদাহরণ বিরল।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাতৃভাষার জন্য জীবন দেওয়ার নজির বিশ্বে খুব কমই আছে।’
ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুধু বইয়ে পড়ার বিষয় নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। এখানে এসে শ্রদ্ধা জানালে সেই ইতিহাস নতুন করে অনুভব করা যায়।’
বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্য মাহদি হাসান বলেন, ‘শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে এসে মানুষের গভীর আবেগ অনুভব করছি। সবাই অত্যন্ত সম্মান ও নিয়ম মেনে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এটি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।’
প্রভাতফেরি, দেশাত্মবোধক গান আর ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ সুরে দিনভর মুখর থাকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর মাতৃভাষার প্রতি অঙ্গীকারে আবারও এক হয় মানুষ।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!