প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সরকার জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে। এ সরকার দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়।
বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশের বইমেলা আলাদা গুরুত্ব বহন করে। এটি মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনের স্মারক। তিনি বলেন, মেলার পরিধি বাড়লেও গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে ভাবনার অবকাশ রয়েছে।
বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বই কেবল জ্ঞানার্জনের মাধ্যম নয়, এটি চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত বই পড়া মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে নতুন সংযোগ সৃষ্টি করে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করে।
তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার বই পড়ার ক্ষেত্রে একধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট-আসক্তি তরুণদের বই থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। ইন্টারনেটে পড়ার সুযোগ থাকলেও মুদ্রিত বই পড়ার অভিজ্ঞতা ভিন্ন এবং গভীরতর। প্রযুক্তি অনিবার্য হলেও এর নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক জরিপে দেখা গেছে, পাঠাভ্যাসে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো সন্তোষজনক নয়। বছরে গড়ে খুব অল্পসংখ্যক বই পড়া হয়। এ প্রবণতা বদলাতে সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।
তিনি প্রস্তাব দেন, ভবিষ্যতে অমর একুশে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক বইমেলা হিসেবে আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং বহু ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে। বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বইমেলা কেবল কেনাবেচার আয়োজন নয়; এটি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের ক্ষেত্র। মেলা শুধু ফেব্রুয়ারিতে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করবে বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীল বিকাশে গবেষণাবৃত্তি, লেখক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজনের মতো উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে। বইমেলা হয়ে উঠুক সবার মিলনমেলা—এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!