জাতীয়

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিশ্রুতিতে অবৈধ দখল ও ভবন নির্মাণে কঠোর রাজউক

আপডেট: ফেব ২৭, ২০২৬ : ০৪:৩৯ পিএম
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিশ্রুতিতে অবৈধ দখল ও ভবন নির্মাণে কঠোর রাজউক

রাজধানী ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও পরিকল্পিত করার লক্ষ্য নিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কঠোর অবস্থান নিয়েছে। “সবার আগে বাংলাদেশ” এই নীতির আলোকে সংস্থার চেয়ারম্যান মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিজু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং নাগরিক সেবায় ডিজিটাল রূপান্তরসহ নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছেন।

অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান ত্বরান্বিত চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ব্যবহার, অনুমোদনহীন অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত ও অভিযান চলছে। রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে, যা নগর পরিকল্পনা আইনের কার্যকর প্রয়োগকে দৃশ্যমান করেছে।
সংস্থার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আইন সবার জন্য সমান—এমন নীতির ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”

ড্যাপ বাস্তবায়ন: পরিকল্পিত নগরীর অঙ্গীকার ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২–২০৩৫ বাস্তবায়নে দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে। জলাধার, খাল ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ, ভবনের উচ্চতা ও ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা জোরদার করা হয়েছে। পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, ড্যাপ বাস্তবায়ন না হলে রাজধানীর টেকসই নগরায়ন সম্ভব নয়। সেবায় ডিজিটাল উদ্ভাবন ভবনের নকশা অনুমোদন, প্লট হস্তান্তরসহ অন্যান্য সেবা অনলাইনে আনা হয়েছে। ফাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রক্রিয়ার অগ্রগতি মনিটর করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নাগরিকদের অভিযোগ ছিল, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় হয়রানি ও বিলম্ব ছিল নিয়মিত। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়েছে।
পূর্বাচল ও ঝিলমিলে অবকাঠামোগত গতি চেয়ারম্যানের নির্দেশে পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে সড়ক, ড্রেনেজ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দৃশ্যমান অগ্রগতি আসলেও কিছু প্রকল্প এখনো চলমান রয়েছে। অভিযোগ ব্যবস্থায় জোর দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সেবা উন্নয়নে হেল্পডেস্ক ও মনিটরিং টিম সক্রিয় করা হয়েছে। দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি ও অভ্যন্তরীণ তদারকি জোরদার করা হচ্ছে। সামনে চ্যালেঞ্জ
ঢাকার দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা, যানজট ও জলাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে নগর ব্যবস্থাপনায় জটিলতা বাড়ছে। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নগর শাসনে শৃঙ্খলা ফেরানো এখন সময়ের দাবি। নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজউকের আইন প্রয়োগ, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও সেবার আধুনিকীকরণে যে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে, তা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজধানীকে আরও শৃঙ্খলিত ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!