সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, বংশগত রোগ থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে সর্বস্তরের জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।
শনিবার (৭ মার্চ) ঢাকার গ্রিন রোডের তাহের ভবনে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির (বিটিএস) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত বিটিএস লটারি-২০২৫ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ১১.৪ শতাংশ বা প্রায় ২ কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক, যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং আক্রান্তদের মধ্যে ৯০ শতাংশই চিকিৎসার খরচ বহন করতে সক্ষম নন। তবে আগে থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করলে থ্যালাসেমিয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।
তিনি বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির কর্ণধারদের নির্দেশ দেন, রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ, নীতিগত উদ্যোগ ও চিকিৎসা সহায়তা সংক্রান্ত ডকুমেন্টস প্রস্তুত করে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে আর কোনো শিশু যেন থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ না করে, তার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।”
মূল অনুষ্ঠানে দুইজন থ্যালাসেমিয়া যোদ্ধা নওশীন তানজীম ও লুবাবা তাসনীম তাদের জীবনযুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এছাড়াও তারা হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস টেস্ট বিনামূল্যে করার প্রস্তাব দেন এবং একটি বিশেষায়িত থ্যালাসেমিয়া হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাসহ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ অংশে প্রতিমন্ত্রী আনন্দঘন পরিবেশে বিটিএস লটারি-২০২৫ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের চেক হস্তান্তর করেন। তিনি বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান এবং থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমাজের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!