জাতীয়

জাপানে খাদ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে: খাদ্যমন্ত্রী

আপডেট: মার্চ ০৮, ২০২৬ : ০৮:৩৭ এএম
জাপানে খাদ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে: খাদ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে জাপানে খাদ্যপণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে বৈশ্বিক বাজারে খাদ্য রপ্তানির সুযোগ আরও বাড়বে।

রোববার সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুচি তমুহিদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন ‘ফুড সেফটি টেস্টিং ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে জাপান ও আসিয়ান দেশগুলোর মতো একক ও সুবিন্যস্ত খাদ্য ব্যবসা লাইসেন্স ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়। জাইকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারত ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসার লাইসেন্স প্রদান শুরু করেছে।

বৈঠকে জানানো হয়, জাইকার অর্থায়নে প্রায় ২ হাজার ৪০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকায় একটি ফুড সেফটি রেফারেন্স ল্যাবরেটরি, চট্টগ্রাম ও খুলনায় দুটি খাদ্য পরীক্ষাগার এবং একটি প্রশিক্ষণ ভবন নির্মাণ করা হবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের খাদ্য নিরাপত্তা পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়বে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা আমাদের সক্ষমতা আরও বাড়াবো এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য রপ্তানির জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। আমরা যদি আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পারি, তাহলে খাদ্য রপ্তানি সহজ হবে।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক বাজারে ভালো চাহিদা রয়েছে। এখন প্রয়োজন সঠিক উদ্যোগ ও কার্যকর পরিকল্পনা। সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

খাদ্যমন্ত্রী জনগণের নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুদ, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয়সহ খাদ্য ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি এ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাইকাকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
জাইকার পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানো হয় এবং বাংলাদেশে তাদের অর্থায়নে চলমান বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা কামনা করা হয়।
বৈঠকে জাইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকারসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!