বাগেরহাটের রামপাল এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু এবং বর আহাদুর রহমান সাব্বির সহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বিয়ের পর বরপক্ষের সঙ্গে নববধূকে স্বামীর বাড়ি মোংলার উদ্দেশ্যে নেওয়া মাইক্রোবাসটি খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়।
নিহতদের মধ্যে কনের পরিবারের সদস্যরা—কন্যা লামিয়া, নানি আনোয়ারা বেগম, দাদি রাশিদা বেগম, আঞ্জুমান, পুতুল, ঐশী—এছাড়া শিশু ইরাম, বরপক্ষের গাড়িচালক নাঈম শেখ, সামিউল ও আলিফ রয়েছেন। মোংলায় ৯ জন এবং কয়রায় ৪ জনের মরদেহ নেওয়া হয়েছে, রামপালে রাখা হয়েছে মাইক্রোবাসচালকের মরদেহ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিয়ের আনন্দ মুছে গিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে শোক আর আহাজারি নেমে এসেছে। নিহত বরের ভাই জনি বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি একা হয়ে গেলাম।”
প্রতিবেশী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, মরদেহের গোসল সম্পন্ন হয়েছে এবং জুমার নামাজের পর তাদের দাফন করা হবে। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানাজায় অংশ নেবেন।
নিহত কনের মামা আবু তাহের জানান, “মার্জিয়ার শ্বশুরবাড়ি মোংলার শেলাবুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসটি। বিকেল ৪টার পর রামপালের কাছাকাছি দুর্ঘটনা ঘটে। আমাদের সব শেষ হয়ে গেল।”
কাটাখালি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ জানিয়েছেন, পরিবারের আবেদনের পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুর্ঘটনাটি দেশব্যাপী শোকের ছায়া ফেলেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর হৃদয়বিদারক চিত্রগুলি ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়েছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!