অনলাইনে টিকিট প্রাপ্তিতে কিছুটা জটিলতা থাকলেও, এবারের ঈদযাত্রায় রেলপথে বড় কোনো ভোগান্তি ছাড়াই হাসিমুখে ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। সময়মতো ট্রেন ছেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে।
আজ সোমবার সরেজমিনে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তবে স্টেশনে প্রবেশে ছিল কঠোর শৃঙ্খলা; প্রত্যেকের টিকিট যাচাই করে তবেই প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ কারণ ছাড়া টিকিটবিহীন কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না রেল কর্তৃপক্ষ।
তেমনই একজন যাত্রী বেসরকারি চাকুরিজীবী রিয়াসাত, যিনি উপবন এক্সপ্রেসের টিকিট কেটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিরছেন। সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনলাইনে টিকিট কাটায় এবারের ঈদযাত্রা বেশ আরামদায়ক হচ্ছে। স্টেশনেও তেমন বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় নেই, তাই ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রা শুরু করতে পারছি।
শায়েস্তাগঞ্জের যাত্রী আজিজুল হক বলেন, অনলাইনে টিকিট কেটেছি, তেমন কোনো ভোগান্তি হয়নি। এবারের ঈদযাত্রা ভালোই লাগছে।
সিলেটগামী যাত্রী মো. বিল্লাল বলেন, অনলাইনে টিকিট কিনতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছিল। এসি কোচের টিকিট কাটতে চাইলেও তা পাইনি। পরে শোভন চেয়ারের টিকিট পেয়েছি। তবে সার্বিকভাবে এবার কোনো ভোগান্তি নেই।
প্রচুর চাহিদা ও ওয়েবসাইটে অতিরিক্ত চাপের ফলে অনেক যাত্রীই অনলাইনে টিকিট কাটতে পারেননি। তবে ঈদযাত্রায় শামিল হতে স্টেশন থেকে বিক্রি হচ্ছে স্ট্যান্ডিং টিকিট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটেছেন নাজমুল হক। তিনি বলেন, অনলাইনে কয়েকবার চেষ্টা করেও টিকিট কাটতে পারিনি। কিন্তু বাড়ি তো ফিরতেই হবে। পরে স্টেশনে এসে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটেছি, দাম ঠিকঠাকই রেখেছে।
বাইরে যারা স্ট্যান্ডিং টিকিট পাচ্ছেন না, তারা প্ল্যাটফর্মের ভেতরে এসে জরিমানাসহ টিকিট কিনতে পারছেন। যদিও কর্তব্যরত কর্মকর্তারা যাত্রীদের আগেভাগেই স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করতে উৎসাহিত করছেন।
সার্বিক বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত ২০ জোড়া ট্রেন ঢাকা ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে 'নীলসাগর এক্সপ্রেস' আধা ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়লেও বাকি সব ট্রেন সময়মতো ছেড়ে গেছে। আমরা যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, আশা করছি তাতে যাত্রীরা ভোগান্তিহীন একটি ঈদযাত্রা উপভোগ করতে পারবেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!