জাতীয়

পাবনায় হামের প্রকোপ বাড়ছে, হাসপাতালে ভর্তি ২৫ জন

আপডেট: মার্চ ৩০, ২০২৬ : ০৬:২৯ এএম
পাবনায় হামের প্রকোপ বাড়ছে, হাসপাতালে ভর্তি ২৫ জন

পাবনায় সংক্রামক রোগ হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। আক্রান্তের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন। তিন মাসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাম ওয়ার্ডে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও একজন ২২ বছর ও একজন ৩৬ বছর বয়সী রোগীও রয়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগী অত্যধিক ভিড়ের কারণে একেকটি শয্যায় দুই-তিনজন করে ভর্তি করা হয়েছে। বারান্দার কাঁচঘেরা ঘরেও শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন পাবনা সদর উপজেলার আশুতোষপুর গ্রামের গৃহবধূ স্মৃতি খাতুন, যিনি চার মাস বয়সী মেয়েকে ভর্তি করেছেন। তার কথায়, “প্রথমে ঠান্ডা-জ্বর হয়েছিল, পরে মুখে লাল দাগ বের হয়। অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছে, বিছানায় ঘুমাতে পারছে না। চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।”

পাবনা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, চলতি বছরের তিন মাসে জেলায় ৩৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিনিয়র পরিসংখ্যান কর্মকর্তা অংশুপতি বিশ্বাস জানিয়েছেন, ১০৪টি সন্দেহভাজন ঘটনার মধ্যে ৬৬টির ল্যাব পরীক্ষায় ৩৩টিতে হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক রফিকুল হাসান জানান, হাম ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ, শিশু ও বয়স্ক কেউ আক্রান্ত হতে পারে। হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সংকট নেই। তবে ৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন ২০০ রোগী ভর্তি হওয়ার কারণে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। তিনি জানিয়েছেন, হামের জন্য নতুন ওয়ার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

হাম পরীক্ষার জন্য জেলায় কোনো ল্যাব নেই। রোগ নির্ণয়ের জন্য পুরোপুরি ঢাকা নির্ভর, যেখানে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে একমাত্র ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। ফল পেতে সাধারণত সাত দিন সময় লাগে। এ সময়ে রোগীদের আইসোলেশনে রাখা হয়।

সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রতি বছর হাম সংক্রমণ ঘটে, তবে এ বছর উদ্বেগজনকভাবে বেশি। আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথক আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, বিশেষ করে ৯ মাস বা তার কম বয়সী।

এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, শিশুদের নিয়মিত ভ্যাকসিনেশন এবং বাড়িতে পরিচ্ছন্নতার উপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!