জাতীয়

ঈদযাত্রায় প্রতিদিন গড়ে ২০ জনের প্রাণহানি

আপডেট: এপ্রি ০২, ২০২৬ : ০৬:৪৬ এএম
ঈদযাত্রায় প্রতিদিন গড়ে ২০ জনের প্রাণহানি

সদ্য বিদায়ী ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ১৫ দিনে (১৪–২৮ মার্চ) সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯৮ জন নিহত হয়েছেন। এ হিসাবে ঈদযাত্রায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ে মোট ৩৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৪৬ জন নারী ও ৬৭ জন শিশু।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ।

এ ছাড়া একই সময়ে ১১টি নৌ দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ২৩ জন আহত এবং ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ২৯টি রেল দুর্ঘটনায় ৪১ জন নিহত এবং ২০৯ জন আহত হয়েছেন।

যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। এতে চালক ও আরোহী মিলিয়ে ১১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাসযাত্রী ৪১ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৫০ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের যাত্রী ২০ জন এবং ট্রাক-পিকআপে ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে বলা হয়, দুর্ঘটনার মধ্যে ১১৫টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৬১টি আঞ্চলিক সড়কে এবং ৪৮টি গ্রামীণ সড়কে ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে (১৫২টি) এবং মুখোমুখি সংঘর্ষে (৯৬টি)।

অঞ্চলভিত্তিক হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ প্রাণহানি হয়েছে। সেখানে ৯৩টি দুর্ঘটনায় ৭৪ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ১২ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ৪৩টি দুর্ঘটনায় ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের ঈদে রাজধানী ঢাকা থেকে এক কোটির বেশি মানুষ ঘরমুখী হয়েছেন এবং দেশের ভেতরে প্রায় চার কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। দীর্ঘ ছুটি থাকায় ভিড় কিছুটা কম হলেও অব্যবস্থাপনার কারণে সড়ক, রেল ও নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংস্থাটি কয়েকটি বড় দুর্ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছে, যার মধ্যে সদরঘাটে দুই লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে দুজনের মৃত্যু, জামালপুরে ড্রামসেতু উল্টে চার শিশুর মৃত্যু, কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে বাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১৪ জন নিহত এবং দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ে ২৬ জনের মৃত্যু উল্লেখযোগ্য। এসব ঘটনাকে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সংস্থাটি।

গত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়েছে, তবে প্রাণহানি কমেছে ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ। সংস্থাটির মতে, এটি কোনো উন্নতির সূচক নয়; বরং জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেলের ব্যবহার কমে যাওয়ায় প্রাণহানি কিছুটা কমেছে।

প্রতিবেদনে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংস্কার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার এবং দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া টেকসই পরিবহন কৌশলের আওতায় সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন সমন্বিত করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠনের সুপারিশও করেছে সংস্থাটি।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!