ঢাকার কারখানা বন্ধ করে সাভারের আশুলিয়ায় স্থানান্তরের কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে British American Tobacco Bangladesh। বহুজাতিক এ কোম্পানিটির এককালীন ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭১৫ কোটি টাকা, যা তাদের মুনাফায় উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
কোম্পানিটির ২০২৫ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নিরীক্ষক গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) Dhaka Stock Exchange-কে এ সংক্রান্ত মতামত জানায়।
নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচিত বছরে কারখানা পুনর্গঠন ও স্থানান্তরের পেছনে মোট ৭১৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৭৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে স্থায়ী সম্পদের অবলোপনের কারণে। ফলে কোম্পানির মুনাফায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত বছরের জুনে Supreme Court of Bangladesh জমির ইজারা চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দিলে ঢাকার কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানিটি। একই সময়ে মহাখালী ডিওএইচএস থেকে প্রধান কার্যালয়ও সাভারের আশুলিয়ায় স্থানান্তর করা হয়।
আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকার কারখানা বন্ধের পর আশুলিয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ২৯৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ঢাকার কারখানার যন্ত্রপাতি ও সিগারেট উৎপাদন সরঞ্জাম পর্যায়ক্রমে সাভারে স্থানান্তর করা হয়।
এই আকস্মিক বন্ধ, স্থানান্তর ও পুনর্গঠনের প্রভাব কোম্পানির আয়-ব্যয়ে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ২০২৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৮১ পয়সা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬৭ শতাংশ কম। আগের বছর ইপিএস ছিল ৩২ টাকা ৪২ পয়সা।
মুনাফায় বড় পতনের কারণে ২০২৫ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। আগের বছরে যেখানে ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!