দেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মানের “কানো-বিএসটিকিউএম কোয়ালিটি অ্যাওয়ার্ড” প্রদান অনুষ্ঠান আগামী ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাজধানীর InterContinental Dhaka-এ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সোসাইটি ফর টোটাল কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (BSTQM) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত SAIDA Shinichi-কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত কোয়ালিটি বিশেষজ্ঞ Noriaki Kano বিজয়ী প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন এহসানুল হক, সাবেক উপাচার্য, Khulna University of Engineering & Technology এবং সাবেক সদস্য, University Grants Commission।
সংগঠনের ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটি (NSC) জানিয়েছে, প্রফেসর নোরিয়াকি কানো ৫ এপ্রিল সকালে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠানে প্রথম বিজয়ী প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করা হবে এবং তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত BSTQM দীর্ঘদিন ধরে দেশে গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করে আসছে। তাদের উদ্যোগে টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস ও রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতে মানোন্নয়নের ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।
বিশ্বব্যাপী জাপানের টোটাল কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (TQM) পদ্ধতি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। জাপানে Japanese Union of Scientists and Engineers কর্তৃক “Deming Award” প্রদান করা হয়, যা গুণগত উৎকর্ষতার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত। একইভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে “Malcolm Baldrige National Quality Award” ও “Singapore Quality Award” সুপরিচিত।
বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো পুরস্কার না থাকায় BSTQM, প্রফেসর নোরিয়াকি কানোর পরামর্শে আন্তর্জাতিক মানের অনুরূপ “কানো-বিএসটিকিউএম কোয়ালিটি অ্যাওয়ার্ড” চালু করেছে।
এই পুরস্কারের লক্ষ্য হলো—প্রতিষ্ঠানসমূহকে গুণগত উৎকর্ষ অর্জনে উৎসাহিত করা, ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধি, ত্রুটিমুক্ত পণ্য ও সেবা নিশ্চিতকরণ, উন্নত কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পথ সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আয়োজকরা জানান, এই পুরস্কার প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী মূল্যায়ন কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে এবং ধাপে ধাপে তাদের মূল্যায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মূল্যায়ন সন্তোষজনক না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক পুরস্কার প্রদানের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ী প্রতিষ্ঠানের সাফল্যকে স্বীকৃতি, সম্মান ও উদযাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
No comments yet. Be the first to comment!