জাতীয়

পাহাড়–টিলা কাটা বন্ধে কঠোর নির্দেশ, তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট: এপ্রি ০৯, ২০২৬ : ০১:২৪ পিএম ১১
পাহাড়–টিলা কাটা বন্ধে কঠোর নির্দেশ, তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

পাহাড় ও টিলা কাটা বন্ধে কঠোর নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে খাগড়াছড়িতে পাহাড় কাটার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘পাহাড় ও টিলা কাটা বন্ধে করণীয় নিরূপণ’ শীর্ষক এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘খাগড়াছড়িতে তিন মাসে আট পাহাড় বিলীন’ শিরোনামের সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে এ তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তে পরিবেশ অধিদপ্তর বা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় জানানো হয়, খাগড়াছড়ি জেলা সদরের খাড়িছড়া মাস্টারপাড়া এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুটি এক্সকেভেটর জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী এলাকায় এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং উপজেলার যোগ্যাছোলা ইউনিয়ন ও বাটনাটলী এলাকায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ শাহ-আরেফিন টিলায় পরিচালিত এক অভিযানে ১০টি পাথর উত্তোলন যন্ত্রের বিভিন্ন অংশ ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে তিনটি পাথরবোঝাই ট্রাক জব্দ করে অকেজো করা হয়েছে। পাথর উত্তোলনের কাজে জড়িত তিনজনকে আটক করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড় কাটায় এক্সকেভেটরের ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি জোরদার করতে হবে। এক্সকেভেটর ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে স্থানীয় প্রশাসনের (জেলা ও উপজেলা) পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হবে। ইটভাটায় ব্যবহৃত মাটির উৎস যাচাই ছাড়া কোনো অনুমতি দেওয়া যাবে না। কৃষিজমির মাটি ইটভাটায় ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে আসামিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করে পাহাড় ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান প্রতিমন্ত্রী।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!