প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান জাতীয় সংসদের সফলতা মানেই বাংলাদেশের সফলতা। তাই কোনোভাবেই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, একটি স্থিতিশীল সরকার ও কার্যকর সংসদ ছাড়া দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব নয়।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা এবং প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সকাল ১১টায় অধিবেশন শুরু হয়। সন্ধ্যায় সমাপনী বক্তব্য দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই সংসদের দিকে সমগ্র বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে। পৃথিবীর যেখানেই একজন বাংলাদেশি আছেন, তারা প্রত্যাশা নিয়ে সংসদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন।”
তিনি বলেন, সংসদে আলোচনা, বিতর্ক ও মতপার্থক্য থাকবে। তবে কোনোভাবেই সংসদকে অকার্যকর হতে দেওয়া যাবে না। সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনি ব্যর্থ হওয়া মানেই আমি ব্যর্থ হওয়া। আর আমাদের কেউ একজন ব্যর্থ হলে পুরো বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে।”
অতীতে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৭৩ দিনের হরতালের মতো কর্মসূচির কারণে দেশের অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিল, যার প্রভাব এখনো বহন করতে হচ্ছে।
সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে যেকোনো বিষয়ে আলোচনায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। “এই সংসদ হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আসুন, আমরা এই সবুজ চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষা করি”—বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিসহ সব খাতেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
শিক্ষা খাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ বিতরণ শুরু হবে। ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ড্রেস ও জুতার ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি বলেন, “এটি শুধু সহায়তা নয়, বরং শিশুদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও উৎসাহব্যঞ্জক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ।”
নারীশিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেয়েদের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিনা খরচে পড়াশোনা ও মেধাবীদের উপবৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতে বড় বিনিয়োগের কথাও জানান তিনি।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে সমস্যা সমাধানে সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে যৌথ কমিটি গঠন করেছে।
কৃষি ও পরিবেশ নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আগাম প্রস্তুতি নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার কথাও জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশ ও জনগণ থাকলেই আমরা আছি। জনগণকে সম্মান না করলে রাজনীতিও ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই সবার আগে বাংলাদেশ।”
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!