জাতীয়

দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’, তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণের উদ্যোগ

আপডেট: মে ০১, ২০২৬ : ০৬:৪১ এএম
দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’, তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণের উদ্যোগ

তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আগামীকাল (শনিবার) থেকে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের মাধ্যমে কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হবে।

আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকতায় এবার আধুনিক কাঠামোয় নতুন এই ক্রীড়া আয়োজনকে ভবিষ্যৎ ক্রীড়াবিদ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ভার্চুয়ালি সারাদেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতে যুক্ত হয়ে প্রতিযোগীদের সঙ্গে এই নতুন যাত্রার সূচনা করবেন।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ক্রীড়া প্রতিভা শনাক্ত, বাছাই এবং বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট—মোট আটটি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন রেজিস্ট্রেশনে সারা দেশ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি প্রতিযোগী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে কিশোর ও কিশোরীর সংখ্যা যথাক্রমে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ ও ৪৪ হাজার ১৩৩ জন।

উদ্বোধন উপলক্ষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, তৃণমূল থেকে প্রতিভা তুলে আনতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত একটি সুসংগঠিত কাঠামোর মাধ্যমে প্রতিযোগিতা পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরও জানান, দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে—ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও কুমিল্লা—ধাপে ধাপে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করা হবে।

প্রতিটি পর্যায়ে নকআউট ও সুইস লিগ পদ্ধতিতে খেলা পরিচালিত হবে। ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলোতে হিট ও ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে।

অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের জন্য ভাতা, জার্সি ও সনদপত্র প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিতদের জন্য থাকবে দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক প্রশিক্ষণ, বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ এবং বিশেষ ক্রীড়া বৃত্তি।

আয়োজকদের মতে, এই কর্মসূচি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং বাংলাদেশের ক্রীড়া উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করবে। সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ক্রীড়া সাফল্য আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!