জাতীয়

গার্মেন্টসে চাকরির সঞ্চয়ে ১৪ শতক জমিতে শখের আঙুর বাগান

আপডেট: মে ০৭, ২০২৬ : ০৫:৪৬ এএম
গার্মেন্টসে চাকরির সঞ্চয়ে ১৪ শতক জমিতে শখের আঙুর বাগান

ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্টসের চাকরির জমানো টাকায় ১৪ শতক জমিতে গড়ে তোলা একটি আঙুর বাগান এখন স্থানীয়দের কাছে কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই ফেসবুক ও ইউটিউব দেখে আঙুর চাষ শিখে সফল হয়েছেন তরুণ মো. মোকছেদুল ইসলাম।

ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মোকছেদুল ইসলাম স্থানীয় মসজিদের ইমাম মো. খুরশেদ আলমের ছেলে। সম্প্রতি তিনি কামিল (মাস্টার্স) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত একটি গার্মেন্টসে কাজ করে অর্জিত সঞ্চয় দিয়েই শুরু করেন তার কৃষি উদ্যোগ।

গত মঙ্গলবার (৫ মে) তার বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, পাকা সড়কের পাশে সাইনবোর্ড লাগানো বাগানজুড়ে সারি সারি আঙুর গাছ। বাড়ির পেছনের ১৪ শতক জমিতে তিনি গড়ে তুলেছেন ১৮০টি গাছের বাগান। বর্তমানে সেখানে ভ্যালেজ, ডিক্সন, গ্রিন লং, ব্ল্যাক রুবি, বাইকুনুর, সামার ব্ল্যাকসহ অন্তত ২০ জাতের আঙুর চাষ হচ্ছে।

মোকছেদুল জানান, শুরুটা হয়েছিল শখ থেকে। তিনি বলেন, “২০২২ সালে দুইটা আঙুর গাছ লাগাই। তখন ভাবতাম আঙুর টক হয়। পরে দেখি কিছুটা মিষ্টি। এরপরই ইউটিউব-ফেসবুক দেখে চাষ শিখতে শুরু করি।”

ধীরে ধীরে অনলাইন ভিডিও ও বিদেশি চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করেন এবং নিজেই চারা উৎপাদনও শিখে নেন। পরে ১৮০টি চারা রোপণ করে শুরু করেন বাণিজ্যিক উদ্যোগ।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত বাগান গড়ে তুলতে প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, যা গার্মেন্টসের আয়ে সঞ্চয় করেছিলেন। এ বছর প্রথম বাণিজ্যিক ফলন এসেছে বাগান থেকে।

মোকছেদুলের প্রত্যাশা, এবার আঙুর ও চারা বিক্রি মিলিয়ে দেড় লাখ টাকার বেশি আয় হবে। তিনি বলেন, প্রতি কেজি আঙুর ৪০০–৫০০ টাকা দরে বিক্রির আশা করছেন, পাশাপাশি চারা বিক্রি থেকেও আয় হবে।

তবে চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে জানান তিনি। বৃষ্টির কারণে ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বড় সমস্যা। এ কারণে তিনি পলি নেট হাউস ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন।

স্থানীয়দের অনেকে তার বাগান দেখতে ভিড় করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলম মিয়া বলেন, এত জাতের আঙুর একসঙ্গে আগে কখনো দেখিনি। স্বাদও বেশ ভালো।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাশেদুজ্জামান জানান, আঙুর একটি সম্ভাবনাময় ফসল। যথাযথ পরিচর্যা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।

ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, এ অঞ্চলের মাটি ফল চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক গবেষণা ও সম্প্রসারণ হলে আঙুর চাষ দেশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

ফেসবুক-ইউটিউব থেকে শেখা, শ্রমের সঞ্চয় আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি—এই তিনের সমন্বয়ে মোকছেদুল ইসলামের আঙুর বাগান এখন স্থানীয়ভাবে অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!