আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামে সড়ক, মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে গরুর হাট বসানো যাবে না বলে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান জোরদার এবং ফেরিঘাটে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
রোববার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস–এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সড়ক দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ এড়াতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই রাস্তা, মহাসড়ক কিংবা রেললাইনের পাশে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। যানজট ও দুর্ভোগ এড়াতে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশও দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক জানান, কর্ণফুলী এলাকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জায়গাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না।
ফেরিঘাটে নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কুমিরা–গুপ্তছড়া ও সন্দ্বীপ রুটসহ সব ফেরিঘাটে বাস বা ট্রাক ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের নামিয়ে নিরাপদে পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ঘাট এলাকায় নির্দেশনামূলক ব্যানার টানানোর কথাও বলেন তিনি।
সভায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যাবে না। সন্ত্রাস, অস্ত্রের মহড়া, চাঁদাবাজি ও মাদককারবার কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো উৎসবের সময় নিত্যপণ্যের দাম কমানোর সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। ঈদকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় ঈদ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চোরাচালান দমন, যানজট নিরসন এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক–এ যানজট কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, রাস্তার ওপর বাজার না বসানো এবং অবৈধভাবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড় করানো বন্ধের ওপর জোর দেন।
পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি সভায় জানান, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক পাচার ও সেবনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কিশোর গ্যাং সদস্য ও দুর্বৃত্তদের তালিকা করে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সহায়তায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নুরুল আমিন, হুমাম কাদের চৌধুরী, এরশাদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ এনামুল হকসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!