রাজধানীতে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর ঝুঁকি যাচাইয়ে পুরান ঢাকার আরমানিটোলা, মুগদা ও বাড্ডার বিভিন্ন স্থাপনা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। ভবনগুলোর নকশা অনুপস্থিতি, নিরাপত্তা–অব্যবস্থা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে মালিকপক্ষের প্রতি তিনি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আজ শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করেন রাজউক চেয়ারম্যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা। আরমানিটোলায় রেলিং ভেঙে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ভবনটি ঘুরে দেখেন তিনি। ভবনটির মালিকপক্ষ তাৎক্ষণিক নকশা প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে তিনি অসন্তোষ জানান এবং সাত দিনের মধ্যে নকশা দাখিলের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ অবিলম্বে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে মুগদা এলাকায় পার্শ্ববর্তী ভবনের ওপর হেলে পড়া একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শন করেন রাজউক চেয়ারম্যান। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবন দুটির নিচতলার দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাত দিনের মধ্যে ভবনগুলোর নকশা দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা ভাসমান খাবারের দোকান ও হোটেলগুলো দ্রুত সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
বাড্ডার আলাতুন্নেসা স্কুল ও কলেজের তিনটি ভবনও পরিদর্শন করেন তিনি। এর মধ্যে দুই ভবনের কলামে ফাটল দেখা যাওয়ায় নকশা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঝুঁকি নিরসনে ভবন দুটি অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয় এবং স্কুলের পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরিদর্শন শেষে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, “এই ভূমিকম্প আমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয় অনিবার্য। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সিলগালা, বন্ধ বা প্রয়োজন অনুযায়ী অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সচেতনতা ও যথাযথ তদারকি ছাড়া এই নগরী নিরাপদ হবে না। অদূর ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয় এড়াতে এখনই সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!