রাজধানীতে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকটি ভবন পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্ত করেছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)। প্রতিষ্ঠানটির একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল রবিবার (২৩ নভেম্বর) স্বামীবাগ, সূত্রাপুর ও দনিয়ার কয়েকটি ভবনে现场 পরিদর্শন করে প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
স্ট্রাকচারের দুর্বলতা থেকে শুরু করে নির্মাণমান—বহু ঘাটতি আইইবির ভাইস–প্রেসিডেন্ট (সার্ভিসেস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার) প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে গঠিত দলে ছিলেন সিভিল, স্ট্রাকচারাল ও জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং–বিষয়ক একাধিক বিশেষজ্ঞ। তারা মিতালী স্কুল (স্বামীবাগ), সূত্রাপুরের ১০২/১ নম্বর ভবন ও দনিয়ার বর্ণমালা স্কুলসহ কয়েকটি স্থাপনা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে ভবনগুলোর স্ট্রাকচারাল ইন্টিগ্রিটি, কলাম–বিমের ক্ষতচিহ্ন, রেট্রোফিটিংয়ের প্রয়োজন, ফাউন্ডেশনের স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক নির্মাণমান খতিয়ে দেখা হয়। তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে যে ত্রুটিগুলো চোখে পড়ে, সেগুলো হলো— যথাযথ স্ট্রাকচারাল ডিজাইনের ঘাটতি নিম্নমানের উপকরণ বা অপর্যাপ্ত রড ব্যবহার রেট্রোফিটিংয়ের অভাব বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ঠিকভাবে অনুসরণ না করা নির্মাণোত্তর নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ঘাটতি আইইবি মনে করে, এসব ত্রুটি ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে।
‘ডিটেইল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট জরুরি’ প্রতিনিধিদল জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর প্রকৃত অবস্থা নির্ণয়ে জরুরি ভিত্তিতে ডিটেইল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট (DEA) করা প্রয়োজন। এই মূল্যায়নের মাধ্যমেই ভবনগুলো ব্যবহারোপযোগী কি না অথবা কী ধরনের সংস্কার দরকার—তা নির্ধারণ করা সম্ভব। BNBC বাস্তবায়নে কঠোর হওয়ার পরামর্শআইইবি বলছে, রাজধানীসহ সারাদেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় কঠোরভাবে BNBC বাস্তবায়ন, পুরোনো ভবনের সেফটি অডিট, প্রয়োজনীয় রেট্রোফিটিং এবং নির্মাণ–সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের আরও উন্নত প্রশিক্ষণ এখন সময়ের দাবি।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাঠামোগত মূল্যায়ন, নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রস্তুত ও কারিগরি পরামর্শ প্রদানে তারা সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ভবন নির্মাণ নয়’—আইইবির আহ্বান আইইবি আবারও ডেভেলপার, ভবনমালিক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বলেছে—BNBC অমান্য করে ভবন নির্মাণ বা সংস্কার করা মানেই নাগরিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলা। দেশের নগর স্থিতিশীলতা ও মানুষের জীবনরক্ষার স্বার্থে প্রকৌশল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অপরিহার্য।
আরএস
No comments yet. Be the first to comment!